যুক্তরাষ্ট্র বলছে, জোরপূর্বক শ্রমে উৎপাদিত পণ্য আমদানি বন্ধে যথেষ্ট ব্যবস্থা না নেওয়ায় বাংলাদেশসহ ৬০টি অর্থনীতির ওপর অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের প্রস্তাব করা হয়েছে। মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধির কার্যালয় (ইউএসটিআর) মঙ্গলবার ১৯৭৪ সালের বাণিজ্য আইনের ৩০১ ধারার অধীনে এই সিদ্ধান্ত নেয়।
৬০টি অর্থনীতির তালিকা
ইউএসটিআরের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জোরপূর্বক শ্রমে উৎপাদিত পণ্য আমদানি নিষিদ্ধ করতে ব্যর্থ হয়েছে ৫৪টি অর্থনীতি। এগুলো হলো: আলজেরিয়া, অ্যাঙ্গোলা, আর্জেন্টিনা, অস্ট্রেলিয়া, বাহামা, বাহরাইন, বাংলাদেশ, ব্রাজিল, কম্বোডিয়া, চিলি, চীন, কলম্বিয়া, কোস্টারিকা, ডোমিনিকান রিপাবলিক, মিশর, এল সালভাদর, গুয়াতেমালা, গায়ানা, হন্ডুরাস, হংকং, ভারত, ইরাক, ইসরায়েল, জাপান, জর্ডান, কাজাখস্তান, কুয়েত, লিবিয়া, মালয়েশিয়া, মরক্কো, নিউজিল্যান্ড, নিকারাগুয়া, নাইজেরিয়া, নরওয়ে, ওমান, পেরু, ফিলিপাইন, কাতার, রাশিয়া, সৌদি আরব, সিঙ্গাপুর, দক্ষিণ আফ্রিকা, দক্ষিণ কোরিয়া, শ্রীলঙ্কা, সুইজারল্যান্ড, তাইওয়ান, থাইল্যান্ড, ত্রিনিদাদ ও টোবাগো, তুরস্ক, সংযুক্ত আরব আমিরাত, যুক্তরাজ্য, উরুগুয়ে, ভেনেজুয়েলা এবং ভিয়েতনাম।
আরও ছয়টি অর্থনীতি জোরপূর্বক শ্রমে তৈরি পণ্য আমদানি নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করতে ব্যর্থ হয়েছে। এগুলো হলো: কানাডা, ইকুয়েডর, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, ইন্দোনেশিয়া, মেক্সিকো এবং পাকিস্তান।
প্রস্তাবিত শুল্কের হার
ইউএসটিআর বলছে, যেসব অর্থনীতি ইতিমধ্যে জোরপূর্বক শ্রমে তৈরি পণ্য আমদানি নিষিদ্ধ করেছে বা পারস্পরিক বাণিজ্য চুক্তির আওতায় তা করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, তাদের ওপর ১০ শতাংশ অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের প্রস্তাব করা হয়েছে। বাকি অর্থনীতির জন্য এই হার ১২.৫ শতাংশ। এ ছাড়া, নির্দিষ্ট অর্থনীতি থেকে নির্দিষ্ট পরিমাণ পোশাক ও টেক্সটাইল পণ্য আমদানিতে কম হারে শুল্ক আরোপের একটি ব্যবস্থাও প্রস্তাব করা হয়েছে।
শুনানি ও মতামত
আগ্রহী ব্যক্তিরা ২০২৬ সালের ২২ জুনের মধ্যে শুনানিতে অংশ নেওয়ার আবেদন এবং সাক্ষ্যের সারসংক্ষেপ জমা দিতে পারবেন। লিখিত মতামত জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ৬ জুলাই, ২০২৬। ইউএসটিআর ৭ জুলাই, ২০২৬-এ এই বিষয়ে শুনানি করবে।
মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার বলেন, “আমাদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য অংশীদারদের জোরপূর্বক শ্রমে তৈরি পণ্য আমদানি মোকাবেলায় ব্যর্থতা অগ্রহণযোগ্য। এটি এমন একটি পরিস্থিতি তৈরি করে যেখানে আমেরিকান শ্রমিকদের অসম প্রতিযোগিতায় নামতে হয়। আমরা আর এই বৈষম্য সহ্য করব না।”
১৯৭৪ সালের বাণিজ্য আইনের ৩০১ ধারা অন্যায্য বিদেশি কাজ, নীতি বা অনুশীলন মোকাবেলায় ব্যবহৃত হয়। এই ধারার অধীনে ২০২৬ সালের ১২ মার্চ ইউএসটিআর ৬০টি তদন্ত শুরু করে।



