যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ মন্ত্রণালয় ইরানের হরমুজ প্রণালি নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা ‘পার্সিয়ান গালফ স্ট্রেইট অথরিটি’র ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। বুধবার (২৭ মে) মন্ত্রণালয় থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে এ নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়।
পার্সিয়ান গালফ স্ট্রেইট অথরিটি কী?
‘পার্সিয়ান গালফ স্ট্রেইট অথরিটি’ হলো ইরানের তৈরি একটি সংস্থা, যা হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলের অনুমতি দেয়। বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় পাঁচ ভাগের এক ভাগ এই প্রণালি দিয়ে হয়। তাই গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথের ওপর ইরানের নিয়ন্ত্রণ থাকায় বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় প্রভাব ফেলেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রীর বক্তব্য
যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি মন্ত্রী স্কট বেসেন্ট হরমুজ প্রণালীর কর্তৃপক্ষ কমিটি গঠনকে ইরানে ক্ষমতাসীন ইসলামি শাসকগোষ্ঠীর ‘উন্মত্ত পদক্ষেপ’ উল্লেখ করে এক বার্তায় বলেন, ‘বৈশ্বিক সামুদ্রিক বাণিজ্য থেকে আইন বহির্ভূতভাবে অর্থ আদায়ের জন্য ইরানি সামরিক বাহিনীর সর্বশেষ প্রচেষ্টা প্রমাণ করে যে, “অর্থনৈতিক উন্মত্ততা” দেশটির শাসকগোষ্ঠীকে নগদ অর্থের জন্য মরিয়া করে তুলেছে।’
নিষেধাজ্ঞার প্রভাব
যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ মন্ত্রণালয় বলেছে, কেউ যদি হরমুজ প্রণালি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কাজ করে তাহলে ধরে নেওয়া হবে যে তারা ইরানের ইসলামী বিপ্লবী গার্ডকে সহযোগিতা করছে। সে ক্ষেত্রে তাদের ওপরও নিষেধাজ্ঞা আসতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘সম্প্রতি বৈশ্বিক সমুদ্রপথে বাণিজ্যের ক্ষেত্রে ইরানের জোর করে মাশুল আদায়ের চেষ্টার মধ্য দিয়ে বোঝা যাচ্ছে, “ইকোনমিক ফিউরি” অভিযানের কারণে দেশটির সরকার এখন টাকার জন্য মরিয়া হয়ে পড়েছে।’
হরমুজ প্রণালির গুরুত্ব
আরব সাগর ও পারস্য উপসাগরকে সংযুক্তকারী ১৬৭ কিলোমিটার দীর্ঘ হরমুজ প্রণালি বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক বাণিজ্য জলপথগুলোর মধ্যে একটি। পৃথিবীর মোট জ্বালানি পণ্যের এক পঞ্চমাংশ পরিবহন করা হয় এই প্রণালি দিয়ে।
ইরানের অবস্থান
গত সপ্তাহে ‘পার্সিয়ান গালফ স্ট্রেইট অথরিটি’ একটি মানচিত্র প্রকাশ করেছে। সেখানে আবারও হরমুজ প্রণালির দুই পাশে বিস্তৃত জলসীমার ওপর ইরানের মালিকানা দেখানো হয়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধ শুরুর পর বিদেশি বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর হরমুজ প্রণালিতে অবরোধ জারি করে ইরান। পরে দেশটির ইসলামি প্রজাতন্ত্রী সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়, এখন থেকে হরমুজ প্রণালিতে বিদেশি জাহাজ চলাচল করতে হলে টোল দিতে হবে ইরানকে। হরমুজে যুক্তরাষ্ট্র কিংবা ইসরায়েলের পতাকাবাহী কোনো জাহাজ দেখলে সেটি লক্ষ্য করে হামলা চালানো হবে। সূত্র: রয়টার্স



