ইরান সোমবার সতর্ক করে বলেছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ শেষ করতে চুক্তি এখনো দূরে, যদিও কিছু অগ্রগতি হয়েছে। ওয়াশিংটন ও তেহরানের মিশ্র বার্তার পর এই মন্তব্য এলো।
তেলের দামে প্রভাব
চুক্তি নিয়ে নতুন আশাবাদে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম কমেছে। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে এক দিনের মধ্যেই চুক্তি হতে পারে। কিন্তু ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র এর প্রতিবাদ করে বলেন, ‘কেউ এ দাবি করতে পারে না।’
পাকিস্তানের মধ্যস্থতা
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ, যার সরকার যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনায় মধ্যস্থতা করছে, তিনি বেইজিংয়ে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।
মার্কিন ও ইরানি বাহিনী ৮ এপ্রিল থেকে যুদ্ধবিরতি পালন করছে, যখন কূটনীতিকরা সমঝোতার চেষ্টা চালাচ্ছেন। তবে ইরান হরমুজ প্রণালী দিয়ে উপসাগরীয় শিপিং নিয়ন্ত্রণ করছে এবং মার্কিন নৌবাহিনী ইরানের বন্দর অবরোধ করছে।
রুবিওর বক্তব্য
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী রুবিও দিল্লি সফরে সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা ভেবেছিলাম গত রাতে বা আজ কিছু খবর পাব।’ তিনি বলেন, ‘আমাদের টেবিলে একটি শক্ত প্রস্তাব আছে যা প্রণালী খুলে দিতে পারে।’ তিনি আরও বলেন, ‘হয় আমরা একটি ভালো চুক্তি করব, নয়তো অন্য উপায়ে মোকাবিলা করব। আমরা ভালো চুক্তি পছন্দ করি।’
ইরানের অবস্থান
তেহরানে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র এসমাইল বাকাই দ্রুত চূড়ান্ত চুক্তির আশায় পানি ঢেলে দেন। তিনি বলেন, ‘এটা সত্য যে আমরা আলোচনাধীন অনেক বিষয়ে সিদ্ধান্তে পৌঁছেছি। কিন্তু এর মানে এই নয় যে চুক্তি সই হতে যাচ্ছে—কেউ এ দাবি করতে পারে না।’
বাকাই জোর দিয়ে বলেন, ইরান হরমুজ প্রণালীতে সামুদ্রিক যানবাহন পরিচালনার জন্য সেবা ফি নেবে, যা ‘টোল আদায়’ নয়। তিনি বলেন, ‘প্রদত্ত সেবা—নেভিগেশনাল সেবা এবং হরমুজ প্রণালী, পারস্য উপসাগর ও ওমান সাগরের পরিবেশ সুরক্ষার ব্যবস্থা—নির্দিষ্ট ফি আদায়ের প্রয়োজন।’
ট্রাম্পের বার্তা
এর আগে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছিলেন, তিনি তার আলোচকদের ‘চুক্তি করতে তাড়াহুড়ো না করতে’ বলেছেন, কারণ ‘সময় আমাদের পক্ষে’। তিনি সতর্ক করে বলেন, চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত মার্কিন নৌ অবরোধ থাকবে। ট্রাম্পের ট্রুথ সোশ্যাল পোস্টে বলা হয়, ‘যদি আমি ইরানের সঙ্গে চুক্তি করি, তা হবে ভালো ও যথাযথ।’ এতে আরও বলা হয়, ‘এখনো পুরোপুরি আলোচনা হয়নি।’
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু রোববার বলেন, তিনি এবং ট্রাম্প একমত হয়েছেন যে ‘ইরানের সঙ্গে চূড়ান্ত চুক্তিতে পারমাণবিক হুমকি সম্পূর্ণরূপে দূর করতে হবে।’ ইরানি কর্মকর্তারা জোর দিয়ে বলেছেন, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধের দীর্ঘদিনের মার্কিন দাবি সত্ত্বেও, ইরানের বিতর্কিত পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা প্রাথমিক চুক্তির পর পর্যন্ত স্থগিত রাখা হয়েছে।
যুদ্ধের প্রভাব
২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় যুদ্ধ শুরু হলে জ্বালানির দাম বেড়ে যায়। অপরিশোধিত তেলের দাম এখনও উচ্চ, কিন্তু সোমবার অপেক্ষাকৃত আশাবাদে দাম প্রায় পাঁচ শতাংশ কমে যায়। উত্তর সাগরের ব্রেন্ট ক্রুড ও ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের দাম যথাক্রমে ৯৯.০০ ও ৯২.১০ ডলারে নেমে আসে।
আঞ্চলিক সমর্থন
শনিবার সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, মিশর, জর্ডান ও বাহরাইনের নেতারা এবং তুরস্ক ও পাকিস্তানের প্রতিনিধিরা ট্রাম্পের সঙ্গে চুক্তি নিয়ে আলোচনায় অংশ নেন। সোমবার আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টার কেন্দ্রবিন্দু বেইজিংয়ে স্থানান্তরিত হয়, যেখানে পাকিস্তানের শরিফ ও সেনাপ্রধান আসিম মুনির (যিনি শনিবার তেহরান সফর করেন) শি ও প্রধানমন্ত্রী লি ছিয়াংয়ের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। শরিফ চীনা নেতাদের বলেন, ‘বিশ্ব একটি সংকটময় মুহূর্তের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। পরিস্থিতি সঠিক পথে এগোচ্ছে। শান্তি প্রচারে চীনের সমর্থনের জন্য আমি ধন্যবাদ জানাই।’



