ঋণ ব্যবস্থাপনায় এডিবির সুপারিশ: বাংলাদেশে পৃথক কার্যালয় গঠন
ঋণ ব্যবস্থাপনায় এডিবির সুপারিশ: পৃথক কার্যালয় গঠন

দেশের সরকারি ঋণ ব্যবস্থাপনা আরও কার্যকর ও স্বচ্ছ করতে বাংলাদেশে একটি পৃথক ‘ডেডিকেটেড ঋণ ব্যবস্থাপনা কার্যালয়’ গঠনের সুপারিশ করেছে এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (এডিবি)। একই সঙ্গে সংস্থাটি সতর্ক করে বলেছে, আগামী নভেম্বরে স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণের আগে বাংলাদেশের আর্থিক সক্ষমতা বা ‘ফিসকাল স্পেস’ ক্রমেই সংকুচিত হয়ে আসছে।

প্রতিবেদনের মূল পর্যবেক্ষণ

শনিবার (২৩ মে) প্রকাশিত বাংলাদেশের সুশাসন ও সামষ্টিক অর্থনৈতিক সংস্কারবিষয়ক এডিবির সমন্বিত মূল্যায়ন প্রতিবেদনে এসব পর্যবেক্ষণ তুলে ধরা হয়েছে। প্রতিবেদনে ২০২৪ সাল পর্যন্ত দেশের আর্থিক সক্ষমতা, কাঠামোগত দুর্বলতা এবং প্রয়োজনীয় সংস্কার অগ্রাধিকারের বিষয়গুলো বিশ্লেষণ করা হয়েছে।

ঋণের পরিমাণ ও ব্যবস্থাপনার ঘাটতি

এডিবির তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে বাংলাদেশের সরকারি ঋণের পরিমাণ মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রায় ৪১ শতাংশে পৌঁছেছে। তবে ঋণ ব্যবস্থাপনায় এখনও সমন্বয়ের ঘাটতি রয়েছে। ঋণসংক্রান্ত তথ্য বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে বিচ্ছিন্নভাবে সংরক্ষিত থাকায় সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও বিশ্লেষণ কঠিন হয়ে পড়ছে। এছাড়া মধ্যমেয়াদি ঋণ ব্যবস্থাপনা কৌশল এখনও পুরোপুরি প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোয় আসেনি এবং এ-সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশেও ঘাটতি রয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ডেডিকেটেড কার্যালয়ের প্রস্তাব

এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় ঋণের সব তথ্যভান্ডারকে সমন্বিত করে একটি একক কর্তৃপক্ষের অধীনে আনার সুপারিশ করেছে এডিবি। প্রস্তাবিত এই ডেডিকেটেড ঋণ ব্যবস্থাপনা কার্যালয় দেশের সামগ্রিক ঋণ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ, ব্যবস্থাপনা এবং তা জনসমক্ষে প্রকাশের দায়িত্ব পালন করবে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

সামষ্টিক অর্থনীতির চ্যালেঞ্জ

প্রতিবেদনে বাংলাদেশের সামষ্টিক অর্থনীতির আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ তুলে ধরা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে নিম্ন রাজস্ব আহরণ, বৈদেশিক খাতে ভারসাম্যহীনতা বৃদ্ধি এবং নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণের সুযোগ সংকুচিত হয়ে আসা। এডিবির মতে, এলডিসি উত্তরণের পর বাণিজ্য ও উন্নয়ন অর্থায়নে বিদ্যমান বিশেষ সুবিধাগুলো হারালে এসব চাপ মোকাবিলা আরও কঠিন হয়ে উঠতে পারে।

কাঠামোগত দুর্বলতা ও অগ্রগতি

মূল্যায়ন প্রতিবেদনে নীতিগত, আইনি ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর বিভিন্ন দুর্বলতার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। সংস্থাটি বলেছে, এসব দুর্বলতা সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং নাগরিক সেবা প্রদানের সক্ষমতার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। তবে কিছু ক্ষেত্রে অগ্রগতির কথাও তুলে ধরেছে এডিবি। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উন্নত ইন্টিগ্রেটেড বাজেট অ্যান্ড অ্যাকাউন্টিং সিস্টেম (আইবাস++) চালুর ফলে বাজেট বাস্তবায়নের হার বেড়েছে। পাশাপাশি ইন্টারন্যাশনাল পাবলিক সেক্টর অ্যাকাউন্টিং স্ট্যান্ডার্ডস (আইপিএসএএস) গ্রহণের উদ্যোগ এবং সরকারি ক্রয়ব্যবস্থা শক্তিশালী করার পদক্ষেপকেও ইতিবাচক হিসেবে উল্লেখ করেছে সংস্থাটি।