ভেনেজুয়েলায় জোড়া ভূমিকম্প: ৩৯ সেকেন্ডের ব্যবধানে ৭.২ ও ৭.৫ মাত্রার কম্পন
ভেনেজুয়েলায় বুধবার (২৪ জুন) এক মিনিটেরও কম সময়ের ব্যবধানে ৭.২ ও ৭.৫ মাত্রার দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। এর পর থেকে দেশটিতে ২০টিরও বেশি আফটারশক (পরবর্তী কম্পন) অনুভূত হয়েছে। এটি দেশটির ইতিহাসে অন্যতম শক্তিশালী ভূমিকম্প।
সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানিয়েছে, প্রথম ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল ৭.২ এবং এর কেন্দ্রস্থল ছিল কারাবোবো অঙ্গরাজ্যে, রাজধানী কারাকাস থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার দূরে। এর মাত্র ৩৯ সেকেন্ড পর আরও শক্তিশালী ৭.৫ মাত্রার দ্বিতীয় ভূমিকম্পটি আঘাত হানে বলে জানিয়েছে মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস)।
ইতিহাসের ১০টি সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্প
ভেনেজুয়েলার ভূমিকম্পটি দেশটির ইতিহাসে অন্যতম শক্তিশালী হলেও, এগুলো বিশ্বের ইতিহাসে রেকর্ড হওয়া সবচেয়ে বড় ভূমিকম্পগুলোর মধ্যে পড়ে না। মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস)-এর তথ্য অনুযায়ী, ইতিহাসের ১০টি সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্প ও সেগুলোর আনুমানিক প্রাণহানির সংখ্যা নিচে দেওয়া হলো—
- ১৯৬০ সালে চিলির বিওবিওতে ৯ দশমিক ৫ মাত্রার ভয়াবহ ভূমিকম্প আঘাত হানে। এতে কমপক্ষে ১ হাজার ৬৫৫ জনের মৃত্যু হয়।
- যুক্তরাষ্ট্রের আলাস্কায় ১৯৬৪ সালে ৯ দশমিক ২ মাত্রার ভূমিকম্পে ১৩০ জনের মৃত্যু হয়।
- ইতিহাসের অন্যতম ভয়াবহ ভূমিকম্প আঘাত হানে ইন্দোনেশিয়ার সুমাত্রায়। ২০০৪ সালে আঘাত হানা ৯ দশমিক ১ মাত্রার ভূমিকম্পে ২ লাখ ৮০ হাজারের বেশি প্রাণহানি হয়।
- জাপানের তোহোকুতে ২০১১ সালে ৯ দশমিক ১ মাত্রার ভূমিকম্প হয়। এতে ১৫ হাজারের বেশি মানুষ মারা যান।
- ১৯৫২ সালে রাশিয়ার কামচাটকায় ৯ মাত্রার ভূমিকম্পে সর্বোচ্চ ১৫ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়।
- দীর্ঘ ৭৩ বছর পর ২০২৫ সালে রাশিয়ার কামচাটকায় ফের ভয়াবহ ভূমিকম্প অনুভূত হয়। রিখটার স্কেলে এর মাত্রা ছিল ৮ দশমিক ৮। তবে এতে কোনো মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি।
- চিলির বিওবিওতে ২০১০ সালে ৮ দশমিক ৮ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হানে। এতে ৫২৩ জনের মৃত্যু হয়।
- ইকুয়েডরের এসমেরালদাসে ১৯০৬ সালে ৮ দশমিক ৮ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হানে। এতে দেড় হাজার মানুষের মৃত্যু হয়।
- ১৯৬৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রের আলাস্কা অঙ্গরাজ্যে ৮ দশমিক ৭ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হানে। তবে এতে কোনো প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি।
- ভারতের অরুণাচল প্রদেশে ১৯৫০ সালে ৮ দশমিক ৬ মাত্রার ভূমিকম্পে ৭৮০ জনের মৃত্যু হয়।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা ও ইউএসজিএস।



