হত্যার অভিযোগে দায়ের হওয়া দুই মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিষয়ক উপদেষ্টা তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরীর জামিন আবেদন কার্যতালিকা থেকে বাদ দিয়েছেন হাইকোর্ট। এর ফলে মামলা দুটিতে তার জামিন মেলেনি। বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) হাইকোর্টের একটি দ্বৈত বেঞ্চ এ আদেশ দেন।
মামলার বিবরণ
জানা গেছে, রাজধানীতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে সংঘটিত দুটি হত্যা মামলায় তাকে আসামি করা হয়। এসব মামলায় অধস্তন আদালতে জামিন না পাওয়ার পর তিনি হাইকোর্টে আবেদন করেন।
এ বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের আপীল বিভাগের আইনজীবী শেখ আলী আহমেদ খোকন বলেন, দুটি মামলার একটির এজাহারে তৌফিক ইলাহীর নাম ছিল না। ওই মামলায় তাকে শ্যোন অ্যারেস্ট করে ১ বছর ৭ মাস কারাগারে রাখা হয়েছে। আসামিকে এই মামলায় ৪ দিনের রিমান্ডে নিয়েও স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি পাওয়া যায়নি, অন্য কোনও তথ্যও পাওয়া যায়নি। তবুও তাকে জামিন দেয়নি আদালত।
অন্যান্য আসামিদের জামিন
এই মামলার এজাহারে তার নাম থাকা সত্ত্বেও অনেকের জামিন হয়েছে। অন্য একটি মামলায় ২০২২ সালের ঘটনায় ২০২৪ সালের মামলার ৪ নম্বর আসামি ছিলেন তৌফিক ইলাহী। এছাড়া ৪২ নম্বর আসামি ছিলেন সাবেক এমপি সাবের হোসেন চৌধুরীসহ অন্যান্য ৩০ জন। তারা এজাহারে আসামি থাকা সত্ত্বেও ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ও উচ্চ আদালত থেকে জামিনে মুক্তি পেয়েছেন। অথচ তৌফিক ইলাহীর জামিন প্রদান প্রশ্নে আদালত দীর্ঘ শুনানি শেষে মামলাটি কার্যতালিকা থেকে বাদ দিয়েছেন।
আইনজীবীর বক্তব্য
আইনজীবী আরও বলেন, তৌফিক ইলাহী একজন মুক্তিযোদ্ধা ও সিনিয়র সিটিজেন। তার অসুস্থতা ও ৮২ বছর বয়স বিবেচনায় আদালত সিআরপিসি ৪৯৭ এর (১)(২) বিবেচনায় করে উচ্চ আদালত জামিন মঞ্জুর করতে পারতো। কিন্তু এটা না হওয়া খুবই দুঃখজনক ঘটনা। এখন মামলাটি অন্য বেঞ্চে শুনানির জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছি।
পটভূমি
প্রসঙ্গত, তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে দীর্ঘদিন প্রধানমন্ত্রীর বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিষয়ক উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে তাকে গ্রেফতার করা হয়। পরবর্তীতে বিভিন্ন হত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধসংক্রান্ত মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়।
এর আগে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালেও তার জামিন আবেদন খারিজ হয়েছিল। ট্রাইব্যুনাল পর্যবেক্ষণে বলেছিলেন, তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের তদন্ত চলমান রয়েছে এবং জামিন দেওয়ার মতো পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়নি। হাইকোর্টে জামিন আবেদন কার্যতালিকা থেকে বাদ পড়ায় আপাতত তাকে কারাগারেই থাকতে হচ্ছে।



