ভেনেজুয়েলায় আঘাত হানা শক্তিশালী জোড়া ভূমিকম্পে প্রাণহানির সংখ্যা বেড়ে ৩২ জনে দাঁড়িয়েছে। রাজধানী কারাকাসসহ বিভিন্ন শহর ও গ্রামে ধসে পড়া ভবনের ধ্বংসস্তূপ থেকে এ পর্যন্ত ৩২ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে; আহত হয়েছেন অন্তত ৭০০ মানুষ। দেশটির ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) এক বিবৃতিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
জোড়া ভূমিকম্পের বিবরণ
বুধবার (২৪ জুন) মাত্র এক মিনিটেরও কম সময়ের ব্যবধানে দেশটিতে আঘাত হানে ৭.২ ও ৭.৫ মাত্রার দুটি প্রচণ্ড ভূমিকম্প। এরপর থেকে এখন পর্যন্ত ২০টিরও বেশি আফটারশক অনুভূত হয়েছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে দেশের উত্তরাঞ্চলের উপকূলীয় এলাকাগুলো। লা গুয়াইরা, আরাগুয়া, কারাবোবো ও ফালকোন রাজ্যে সবচেয়ে বেশি ধ্বংসযজ্ঞ চলছে।
ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ও তীব্রতা
বিবিসির প্রতিবেদন অনুসারে, প্রথম ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল ৭.২ এবং এর উৎপত্তিস্থল ছিল কারাবোবো রাজ্যে, রাজধানী কারাকাস থেকে মাত্র ২০ কিলোমিটার দূরে। মাত্র ৩৯ সেকেন্ড পর আরও শক্তিশালী ৭.৫ মাত্রার দ্বিতীয় ভূমিকম্প আঘাত হানে। মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানিয়েছে, এই দ্বিতীয় ভূমিকম্পের কারণে ব্যাপক প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। সংস্থাটির মতে, ১০ হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যুর সম্ভাবনা ৪৪ শতাংশ এবং ১ লাখের বেশি মানুষের মৃত্যুর সম্ভাবনা ৩০ শতাংশ।
ভবন ধস ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা
ভেনেজুয়েলায় অধিকাংশ ভবনই ভূমিকম্প প্রতিরোধী নয়। ফলে কারাকাসসহ বিভিন্ন শহর ও গ্রামে বহু ভবন ধসে পড়েছে বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আরও অনেক ভবন ঝুঁকিতে থাকায় দেশজুড়ে নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। ভূমিকম্পের পর থেকে রাজধানী কারাকাসসহ অনেক এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। কারাকাসের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরও বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
উদ্ধার কাজ ও সরকারি সতর্কতা
উদ্ধারকাজ অব্যাহত রয়েছে। পরিস্থিতি আরও খারাপ হওয়ার আশঙ্কায় সরকার সতর্ক অবস্থায় রয়েছে।



