যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানিয়েছে, শুক্রবার ফিলিপাইনের দক্ষিণাঞ্চলে ৬.৫ মাত্রার একটি ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। এর আগে গত ৮ জুন একই এলাকায় ৭.৮ মাত্রার ভূমিকম্পে ৮১ জনের বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছিলেন।
ভূমিকম্পের বিবরণ ও সুনামি সতর্কতা
ইউএসজিএস জানিয়েছে, স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৭টা ৪২ মিনিটে (১১৪২ জিএমটি) এই ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। এর উৎপত্তিস্থল ছিল মিন্দানাও দ্বীপের হোসে আবাদ সান্তোস শহর থেকে প্রায় ৩৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে সমুদ্রে, ভূপৃষ্ঠ থেকে ৫২.৪ কিলোমিটার গভীরে। প্রাথমিকভাবে ভূমিকম্পটির মাত্রা ৬.৭ ধরা হলেও পরে তা সংশোধন করে ৬.৫ করা হয়।
ভূমিকম্পের পর কোনো সুনামি সতর্কতা জারি করা হয়নি। সান্তা মারিয়া শহরের ত্রাণ কর্মকর্তা জার্সন তালাহিগ এএফপিকে জানিয়েছেন, এখন পর্যন্ত কোনো হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। তিনি বলেন, “এটি বেশ শক্তিশালী ছিল, তবে দ্রুত শেষ হয়ে গেছে। আমরা টেবিল এবং কিছু আলো নড়তে দেখেছি।”
৮ জুনের ভূমিকম্পের প্রভাব
গত ৮ জুন মিন্দানাওতে আঘাত হানা ৭.৮ মাত্রার ভূমিকম্পটি ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ সৃষ্টি করে। এই ভূমিকম্পে ভবন ধসে পড়ে, ভূমিধসের ঘটনা ঘটে এবং হাজার হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়। এছাড়া সমগ্র অঞ্চলে সুনামি সতর্কতা জারি করা হয়েছিল।
সেই শক্তিশালী ভূমিকম্পের কারণে উপকূলের একটি দীর্ঘ অংশে সমুদ্রতল দুই মিটার (৬.৬ ফুট) উপরে উঠে যায়। এর ফলে পূর্বে নিমজ্জিত প্রবাল পানির উপরে চলে আসে এবং উপকূলরেখা ২০০ মিটার পর্যন্ত প্রসারিত হয়। এই ভূতাত্ত্বিক ঘটনাকে ‘উপকূলীয় উত্থান’ বলা হয়।
প্রথম ভূমিকম্পের প্রায় দুই ঘণ্টা পর থেকে এলাকাটিতে একের পর এক শক্তিশালী আফটারশক অনুভূত হয়, যার মধ্যে একটি ছিল ৬.৫ মাত্রার। শুক্রবার পর্যন্ত ৮ জুনের ভূমিকম্পে ৮১ জন নিহত এবং ১,৩০০ জনের বেশি আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
ফিলিপাইনের ভূমিকম্পপ্রবণতা
ফিলিপাইনে প্রায় প্রতিদিনই ভূমিকম্প হয়। দেশটি প্রশান্ত মহাসাগরীয় ‘রিং অফ ফায়ার’-এর ওপর অবস্থিত, যা জাপান থেকে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া হয়ে প্রশান্ত মহাসাগরীয় অববাহিকা পর্যন্ত বিস্তৃত এক ভূকম্পনপ্রবণ অঞ্চল।
দক্ষিণ মিন্দানাওয়ের উপকূল থেকে মাত্র ৫০ কিলোমিটার (৩১ মাইল) দূরে অবস্থিত কোটাবাটো ট্রেঞ্চ ঘন ঘন ভূমিকম্পের উৎস। চলতি বছরের জানুয়ারিতে এই ট্রেঞ্চে হাজার হাজার ছোট ছোট ভূমিকম্পের ‘ঝাঁক’ রেকর্ড করা হয়েছিল।



