অস্ট্রেলিয়ার রাস্তায় ঘুমন্ত সিলের রাজত্ব, যান চলাচল বন্ধ
অস্ট্রেলিয়ার ভিক্টোরিয়া রাজ্যের সমুদ্রতীরবর্তী শহর ড্রোমানায় গত শুক্রবার একটি অপ্রত্যাশিত ঘটনায় স্থানীয়রা হতবাক হয়ে পড়েন। রাস্তার মাঝখানে একটি ঘুমকাতুরে সিল শুয়ে থাকায় পুরো এলাকায় যান চলাচল সম্পূর্ণভাবে থমকে যায়। না, কোনো দুর্ঘটনা বা গাড়ি বিকল হওয়ার কারণে নয়, বরং এই সামুদ্রিক প্রাণীটির অদ্ভুত আচরণই ছিল এর মূল কারণ।
সিলের অদ্ভুত আচরণে রাস্তা জমে যায়
ঘুমকাতুরে সামুদ্রিক প্রাণী সিল সাধারণত সমুদ্রতীরে রোদ পোহাতে পোহাতে ঘুমাতে দেখা যায়। কিন্তু এদিন সে যেন সব নিয়ম ভেঙে একেবারে গাড়ি চলাচলের রাস্তার মাঝখানেই ঘুমিয়ে পড়েছিল। গাড়ির হর্ন বা মানুষের কোলাহল—কোনো কিছুতেই তার ঘুম ভাঙছিল না। স্থানীয় বাসিন্দা লরা এলেন প্রথম এই দৃশ্য দেখে হাসতে হাসতে বলেন, 'সে সাধারণত সারা দিনই ঘুমায়। কিন্তু তাকে রাস্তায় ঘুমাতে দেখে আমার হাসি পেয়েছে। এমনটা আগে কখনো দেখিনি। ও কোথায় কখন চলে আসে, কেউ জানে না।'
পুলিশ ও উদ্ধারকর্মীদের তৎপরতা
ঘটনার পর স্থানীয় পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে যান চলাচল সাময়িকভাবে অন্য পথে ঘুরিয়ে দেন। স্যামি নামে পরিচিত এই সিল তখনো রোদে গা এলিয়ে দিব্যি ঘুমাচ্ছিল। পরে বন্য প্রাণী উদ্ধারের কাজে নিযুক্ত কর্মীরা এসে ধীরে ধীরে সিলটিকে নিরাপদে আবার সমুদ্রসৈকতের দিকে ফিরিয়ে নেন। এরপর রাস্তাটি আবার যান চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হয়।
ভিক্টোরিয়ায় সিলের উপদ্রব: একটি সাধারণ ঘটনা
ভিক্টোরিয়ার উপকূলে সিল দেখা খুব সাধারণ ঘটনা হলেও কর্তৃপক্ষ বলেছে, এদের স্পর্শ করা বা খাবার দেওয়া আইনত নিষিদ্ধ। অস্ট্রেলিয়ার স্থানীয় সংবাদমাধ্যম এবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মেলবোর্নের পোর্ট ফিলিপ বে-ঘেঁষা উপকূলীয় এলাকার মানুষদের মাঝেমধ্যেই সিলের কারণে বিড়ম্বনায় পড়তে হয়।
অন্যান্য সিলের ঘটনা: হেনরি ও গ্রাম্পি
স্থানীয় লোকজন বলেছেন, গত কয়েক বছরে 'হেনরি' নামে পরিচিত এক বিশাল এলিফ্যান্ট সিলকে ব্লেয়ারগোরি ও পয়েন্ট লন্সডেল এলাকায় একাধিকবার দেখা গেছে। একবার তো পয়েন্ট লন্সডেলের একটি পেট্রল স্টেশনের জানালার কাচ ভেঙে দিয়ে সে বেশ আলোচনার জন্ম দেয়। এছাড়াও, 'গ্রাম্পি' নামে পরিচিত একটি ফার সিলও স্থানীয় বাসিন্দাদের বিড়ম্বনায় ফেলেছে। গত ডিসেম্বরে ব্লেয়ারগোরিতে বার্ষিক নৌকা প্রতিযোগিতা চলার সময় সে হঠাৎ এসে হাজির হয় এবং কয়েকটি নৌকার যাতায়াতের পথ আটকে দেয়। এতে প্রতিযোগিতা সাময়িকভাবে বিঘ্নিত হয়।
এই ঘটনাগুলো দেখায় যে, অস্ট্রেলিয়ার উপকূলীয় অঞ্চলে বন্য প্রাণীদের সাথে মানুষের সহাবস্থান কখনো কখনো চ্যালেঞ্জিং হয়ে উঠতে পারে। তবে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ও উদ্ধারকর্মীরা দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে প্রাণী ও মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করছেন।



