আঙ্গোলায় প্রবল বৃষ্টিপাত ও বন্যা: মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৩০
আঙ্গোলায় গত কয়েকদিন ধরে চলা প্রবল বর্ষণ ও আকস্মিক বন্যার কারণে অন্তত ৩০ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে নতুন হিসাব জানিয়েছে দেশটির সরকারি টেলিভিশন টিপিএ। মঙ্গলবার প্রকাশিত এই হালনাগাদ তথ্যে দেখা যায়, আগের তুলনায় মৃতের সংখ্যা দ্বিগুণেরও বেশি বেড়েছে।
রাজধানী লুয়ান্ডা ও বেঙ্গুয়েলায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি
এই ঝড়বৃষ্টি আটলান্টিক উপকূলবর্তী রাজধানী লুয়ান্ডা ও কেন্দ্রীয় শহর বেঙ্গুয়েলায় ফ্ল্যাশ ফ্লাড বা আকস্মিক বন্যার সৃষ্টি করেছে। রাস্তাঘাট প্লাবিত হওয়ায় যোগাযোগ ব্যবস্থা বিপর্যস্ত হয়েছে এবং অবকাঠামোর মারাত্মক ক্ষতি হয়েছে।
বেঙ্গুয়েলা শহরেই বন্যার সবচেয়ে ভয়াবহ প্রভাব পড়েছে, যেখানে ২৩ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে টিপিএ টেলিভিশন জানিয়েছে। অন্যদিকে, লুয়ান্ডায় ছয় জন নিহত হয়েছেন এবং একজন নিখোঁজ রয়েছেন বলে ফায়ার সার্ভিসের এক বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রেসিডেন্টের 'ঘড়ির কাঁটার বিরুদ্ধে দৌড়'
আঙ্গোলার প্রেসিডেন্ট জোয়াও লরেনকো বলেছেন, দেশটি এখন "ঘড়ির কাঁটার বিরুদ্ধে এক দৌড়ে" অংশ নিয়েছে। প্রভাবিতদের খুঁজে বের করা, উদ্ধার করা এবং চিকিৎসা সেবা প্রদানের জন্য জরুরি পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
রবিবার জরুরি সেবা বিভাগের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মৃতের সংখ্যা ছিল ১৫ এবং হাজার হাজার মানুষকে তাদের বাড়িঘর ছেড়ে চলে যেতে বাধ্য হয়েছে।
প্রতিবেশী নামিবিয়াতেও পরিস্থিতি উদ্বেগজনক
আঙ্গোলার প্রতিবেশী দেশ নামিবিয়াতেও জাম্বেজি নদীর পানি বিপজ্জনক হারে বেড়ে গেছে। নদী তীরবর্তী এলাকায় বসবাসকারী হাজার হাজার মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পানির স্তর প্রায় ৬.৮ মিটার পর্যন্ত পৌঁছেছে, যা সাধারণ চার মিটারের তুলনায় অনেক বেশি।
জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব
দক্ষিণ আফ্রিকায় বর্ষাকালে ভারী বৃষ্টিপাত অস্বাভাবিক নয়, কিন্তু বিজ্ঞানীরা বলছেন যে মানুষসৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তন এমন চরম আবহাওয়া ঘটনার সম্ভাবনা, সময়কাল এবং তীব্রতা বাড়িয়ে দিচ্ছে।
- আঙ্গোলায় বন্যার কারণে ব্যাপক জীবনহানি ও সম্পদ ক্ষতি হয়েছে।
- জরুরি উদ্ধার অভিযান ও ত্রাণ কার্যক্রম ত্বরান্বিত করা হচ্ছে।
- অঞ্চলটিতে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব ক্রমশ প্রকট হচ্ছে।



