লেবাননে বোমা হামলায় নিহত দিপালীর লাশ দেশে এনে দাফন, শোকস্তব্ধ পরিবার
লেবাননে বোমা হামলায় নিহত দিপালীর লাশ দেশে এনে দাফন

ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলার লেবানন প্রবাসী দিপালী আক্তার (৩৪) ইসরাইলি বোমা হামলায় নিহত হওয়ার এক মাস পর শুক্রবার সকালে তার লাশ বাড়িতে এনে দাফন করা হয়েছে। দিপালীর লাশ বাড়িতে আনার পর শোকের মাতম শুরু হয়। লাশ দেখেই আহাজারি করেন স্বজনরা।

ঘটনার বিবরণ

গত ৮ এপ্রিল ইসরাইলি ভয়াবহ বোমা হামলায় লেবাননের রাজধানী বৈরুতে নিহত হন দিপালী আক্তার। তিনি উপজেলার চরহরিরামপুর ইউনিয়নের পূর্ব চরশালেপুর গ্রামের শেখ মোফাজ্জলের মেয়ে। শুক্রবার সকাল ১০টায় মুন্সিরচর বাজারে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে গ্রামের কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।

জানাজায় অংশগ্রহণ

জানাজায় উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) যায়েদ হোসাইন, ফরিদপুর প্রবাসী কল্যাণ সেন্টারের সহকারী পরিচালক আশিক ছিদ্দিকী, ইউপি চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর কবির ও স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাসহ হাজার হাজার জনতা অংশ নেন। ফরিদপুর জেলা প্রশাসক মাজহারুল ইসলাম নিহতের পিতার সঙ্গে মোবাইল ফোনে কথা বলে সান্ত্বনা দেন এবং সব প্রকার সহায়তার আশ্বাস দেন।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

লাশ দেশে আনা

গত বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ১১টায় দিপালীর লাশ ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছে। শুক্রবার সকালে গ্রামের বাড়িতে আনা হলে শোকের মাতম নেমে আসে।

পরিবারের অবস্থা

নিহত দিপালীর পরিবারে দুই ভাই, তিন বোন ও বৃদ্ধ পিতা রয়েছেন। বোনদের মধ্যে দিপালী ছিলেন মেজো। তার মা রোজিনা খাতুন পাঁচ বছর আগে বজ্রপাতে মারা যান। এরপর দিপালী লেবাননে গৃহকর্মীর কাজ করে পরিবারের ব্যয়ভার মিটিয়ে আসছিলেন। পরিবারের দৈন্যতার কারণে তিনি বিয়েও করেননি।

হামলার বিবরণ

দিপালী গত পাঁচ বছর ধরে লেবাননে গৃহকর্মী হিসেবে কাজ করছিলেন। ৮ এপ্রিল তিনি মালিকের (কফিলের) পরিবারের সঙ্গে বৈরুতে অবস্থান করছিলেন। এ সময় ইসরাইলি এয়ার স্ট্রাইক হামলায় তিনি ও কফিলের পরিবারের সাত সদস্য নিহত হন। পরে তার লাশ বৈরুতের রফিক হারিরি হাসপাতাল মর্গে রাখা হয়।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

প্রবাসী কল্যাণের ভূমিকা

ফরিদপুর ওয়েজ অনার্স কল্যাণ বোর্ড ও প্রবাসী কল্যাণ সেন্টার দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করে প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে নিজ খরচে লাশ বাড়িতে পৌঁছে দেয়। সহকারী পরিচালক আশিক ছিদ্দিকী বলেন, 'প্রায় এক মাস আগে মৃত্যুর খবর পেয়ে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ রেখেছি। লাশ ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করেছি। পরিবহণ খরচ বহন করেছি। নিহতের পরিবারকে আরও তিন লাখ টাকা অনুদান দেওয়া হবে।'

পরিবারের বক্তব্য

নিহতের বৃদ্ধ পিতা শেখ মোফাজ্জল (৭০) বলেন, 'সংসারে একমাত্র উপার্জনক্ষম মেয়েকে হারিয়ে দিশেহারা। তবু তার লাশ দেখতে পেলাম, এটুকুই সান্ত্বনা।' দিপালীর বোন লাইজু আক্তার আহাজারি করে বলেন, 'আপায় আমাগো খাওয়াতে পড়াতে গিয়ে জীবন দিয়ে দিল। এখন শুধু তার স্মৃতি নিয়ে বাঁচতে হবে। আপনারা আমার বোনের জন্য দোয়া করবেন।'