বার্লিনে কবি দাউদ হায়দারের প্রথম প্রয়াণ দিবসে শ্রদ্ধাঞ্জলি
বার্লিনে কবি দাউদ হায়দারের প্রথম প্রয়াণ দিবসে শ্রদ্ধা

কবি দাউদ হায়দারের প্রথম প্রয়াণ দিবসে জার্মানির বার্লিনে গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে তাঁকে স্মরণ করা হয়েছে। রোববার বার্লিনের সেন্ট মিশেল কবরস্থানে কবির সমাধিফলক স্থাপন ও স্মৃতিচারণা সভার আয়োজন করা হয়। জার্মানির বিভিন্ন শহর থেকে আগত এবং বার্লিনে বসবাসরত কবির অনুরাগীরা উপস্থিত হয়ে প্রয়াত কবির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

প্রয়াণ ও জন্মপরিচয়

২০২৫ সালের ২৬ এপ্রিল কবি দাউদ হায়দার বার্লিনের শ্যোনেবের্গ ক্লিনিকে শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন। তাঁর জন্ম ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি পাবনার দোহারপাড়া গ্রামে। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের ছাত্র ছিলেন। ১৯৭৪ সালে দৈনিক ‘সংবাদ’-এর সাহিত্য পাতায় ‘কালো সূর্যের কালো জ্যোৎস্নায় কালো বন্যায়’ শিরোনামে একটি কবিতা লেখার অভিযোগে তাঁকে একই বছরের ১১ মার্চ গ্রেপ্তার করা হয়।

নির্বাসন ও পরবর্তী জীবন

১৯৭৪ সালের ২১ মে দাউদ হায়দারকে দেশ থেকে বহিষ্কার করা হয়। প্রথমে তিনি ১৩ বছর কলকাতায় কাটান, যেখানে লেখক–সাহিত্যিক অন্নদাশঙ্কর রায় তাঁকে নিজ বাড়িতে আশ্রয় দিয়েছিলেন। পরে জার্মানির নোবেল বিজয়ী সাহিত্যিক গুন্টার গ্রাসের সহযোগিতায় ১৯৮৬ সালের ২২ জুলাই তিনি জার্মানিতে আসেন এবং বার্লিনে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন। বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর তিনিই প্রথম লেখক যাঁকে লেখালেখির কারণে নির্বাসনে যেতে হয়। ৫০ বছর ধরে নির্বাসিত থাকা এই কবি আর কখনো দেশে ফিরতে পারেননি।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

সমাধিফলক উন্মোচন ও স্মৃতিচারণা

কবি দাউদ হায়দারের প্রথম প্রয়াণ দিবসের স্মরণানুষ্ঠানে কবির সমাধিতে স্মৃতিফলক উন্মোচন করেন স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের অন্যতম সংগঠক মুক্তিযোদ্ধা আবদুল্লাহ আল ফারুক। অনুষ্ঠানে কবির নিকট সুহৃদ মাইন চৌধুরী উপস্থিত সবাইকে ধন্যবাদ জানান। পরে সেন্ট মিশেল কবরস্থানের কাছে কবিকে নিয়ে স্মরণসভা অনুষ্ঠিত হয়।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

আলোচনা ও সংগীতানুষ্ঠান

কবির সুহৃদেরা বাংলা কবিতার জন্য কবি দাউদ হায়দারের প্রতি অবিচার ও দেশান্তরিত হওয়ার ঘটনার নিন্দা করেন। আলোচকেরা বলেন, একটি কবিতা লেখার জন্য এই নির্বাসন ছিল কবির জন্য নির্মম নিয়তি। এই ঘটনা বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তাঁকে ও তাঁর কবিসত্তাকে অক্ষয় করে রাখবে। স্মৃতিচারণা অনুষ্ঠানে আরও আলোচনা করেন আবদুল্লাহ আল ফারুক, মাইন চৌধুরী, আবদুল্লাহ আল মামুন, মিতালী মুখার্জী, কবি আনিস আহমেদ, সারণাথ ব্যানার্জি, মামুন হাসান খান, আবদুল্লাহ মোতলেব, মীর মোনাজ হক ও সরাফ আহমেদ। অনুষ্ঠানে উর্মিমালা ঘোষ দুটি রবীন্দ্রসংগীত গেয়ে শোনান।