পাকিস্তান-নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে সংঘর্ষে ১৫ নিহত, উত্তেজনা চরমে
পাকিস্তান-নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে সংঘর্ষে ১৫ নিহত

পাকিস্তান নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে আঞ্চলিক আইনসভার সংরক্ষিত আসন বাতিলের দাবিতে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে নিরাপত্তা বাহিনীর রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে অন্তত ১৫ জন নিহত হয়েছেন। স্থানীয় প্রশাসন নিশ্চিত করেছে, নিহতদের মধ্যে ১১ জন সাধারণ নাগরিক এবং ৪ জন নিরাপত্তা কর্মকর্তা রয়েছেন। চ্যানেল ২৪ ডেস্কের আজ শুক্রবার সকালে প্রকাশিত এক বিশেষ প্রতিবেদনে এই সহিংসতা ও ব্যাপক উত্তেজনার তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।

সংরক্ষিত আসন বিতর্ক

ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীর থেকে কয়েক দশক আগে পাকিস্তানে চলে আসা শরণার্থীদের জন্য আঞ্চলিক আইনসভায় ১২টি আসন সংরক্ষিত রাখা হয়েছে। স্থানীয় অধিকারকর্মীরা দীর্ঘদিন ধরে এই ব্যবস্থার বিরোধিতা করে আসছেন। এই ইস্যুতেই যৌথ আওয়ামী অ্যাকশন কমিটি বা জেএএসি নামক বিভিন্ন সংগঠনের একটি জোট বড় ধরনের বিক্ষোভের ডাক দেয়। তবে প্রশাসন এই সংগঠনটিকে রাষ্ট্রদ্রোহ ও সহিংসতায় জড়িত থাকার অভিযোগে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে এর শীর্ষ নেতাদের গ্রেপ্তারে পুরস্কার ঘোষণা করেছে।

বিক্ষোভ ও সংঘর্ষ

সরকারি নিষেধাজ্ঞা ও কড়াকড়ি উপেক্ষা করে হাজার হাজার মানুষ বর্তমান রাজধানী মুজাফফরাবাদের দিকে পদযাত্রা শুরু করেন। আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, আইনসভার প্রায় এক-চতুর্থাংশ আসন এমন সব ব্যক্তিদের জন্য জমা রাখা হয়েছে যারা এখন আর এই অঞ্চলে বসবাস করেন না। পুঞ্চ জেলার কমিশনার সরদার ওয়াহিদ খান জানান, ১০ হাজারের বেশি বিক্ষোভকারীর একটি বিশাল বহর বর্তমানে রাওয়ালাকোট শহরের বাইরে অবস্থান করছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বাসিন্দাদের ঘরের বাইরে বের না হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত

এই চরম উত্তেজনার মধ্যেই গত বুধবার মুজাফফরাবাদে একটি সামরিক এমআই-১৭ হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়ে ভেতরে থাকা ২২ জন আরোহীর সবাই নিহত হয়েছেন। পাকিস্তান সেনাবাহিনী এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, উড্ডয়নের কিছুক্ষণ পরেই মূলত কারিগরি ত্রুটির কারণে এই দুর্ঘটনাটি ঘটেছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

নির্বাচন ও দাবি

আগামী ২৭ জুলাই অনুষ্ঠিতব্য আঞ্চলিক আইনসভা নির্বাচনে এই ১২টি সংরক্ষিত আসনে স্থানীয় বাসিন্দারা প্রার্থী হতে পারেন না। যৌথ আওয়ামী অ্যাকশন কমিটি দাবি করছে, এই ব্যবস্থা স্থানীয় জনগণের আসল প্রতিনিধিত্বকে নষ্ট করছে। তবে সরকারি কর্তৃপক্ষ বলছে, এই সংরক্ষিত আসনগুলো অপরিহার্য এবং এগুলো সাংবিধানিকভাবে সুরক্ষিত। পাকিস্তান নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের সুপ্রিম কোর্টও এক মতামতে জানিয়েছে, প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত বা জনচাপের মুখে এই আসন বাতিল করা যাবে না।

পূর্বের ঘটনা

গত বছর নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে এই সংগঠনের সংঘর্ষের পর তারা ৩৮টি দাবি জানিয়েছিল। সরকার ৩৭টি দাবি মেনে নিলেও আসন বাতিলের দাবিটি নাকচ করে দেয় এবং গত ৫ জুন সন্ত্রাসবিরোধী আইনে দলটিকে নিষিদ্ধ করা হয়। চলতি সপ্তাহের শুরুতে রাওয়ালাকোটে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে সংঘর্ষে ১২ জন এবং মঙ্গলবার কোটলি শহরে আরও ৩ জন নিহত হন। এই সংঘাতের ঘটনায় এ পর্যন্ত অন্তত ৫০ জন আহত হয়েছেন এবং নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া

আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল এক বিবৃতিতে এই বিক্ষোভ দমনে ইন্টারনেট বন্ধ রাখা, নির্বিচারে গ্রেপ্তার এবং প্রাণঘাতী শক্তি ব্যবহারের তীব্র সমালোচনা করেছে।