কুয়েতে ড্রোন হামলায় চার বাংলাদেশি আহত
কুয়েতে ড্রোন হামলায় চার বাংলাদেশি আহত, দূতাবাসের পরামর্শ

কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে একটি ড্রোন হামলায় অন্তত চার বাংলাদেশি নাগরিক আহত হয়েছেন। কুয়েতে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস বুধবার এই তথ্য নিশ্চিত করে জানিয়েছে, আহত বাংলাদেশিদের ফারওয়ানিয়া হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

দূতাবাসের জরুরি বিবৃতি

দূতাবাসের রাজনৈতিক কাউন্সেলর ও চ্যান্সারি প্রধান মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান স্বাক্ষরিত এক জরুরি বিবৃতিতে বলা হয়েছে, দূতাবাস তাদের অবস্থার খোঁজখবর নিচ্ছে। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, এই ঘটনায় একজন নিহত এবং আরও কয়েকজন বিদেশি নাগরিক আহত হয়েছেন।

কুয়েতে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের জন্য নির্দেশনা

দূতাবাস কুয়েতে অবস্থানরত বাংলাদেশি প্রবাসীদের ঘটনাস্থলের ছবি বা ভিডিও ধারণ না করার পরামর্শ দিয়েছে, বিশেষ করে রকেট বা ড্রোন হামলা ও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থার দৃশ্য ধারণ করা থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে। কুয়েতি আইনে এসব কাজ শাস্তিযোগ্য অপরাধ বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

একইসঙ্গে দূতাবাস জানিয়েছে, কুয়েতের কেন্দ্রীয় রক্ত ব্যাংকে রক্তের মজুত কমে গেছে। তাই যোগ্য বাংলাদেশি প্রবাসীদের জরুরি ভিত্তিতে রক্তদানের জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে। অন্যদেরও রক্তদানে উদ্বুদ্ধ করার আহ্বান জানানো হয়।

হামলার প্রেক্ষাপট

এর আগে বুধবার ইরানের ড্রোন হামলায় কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বাণিজ্যিক ফ্লাইট চলাচল স্থগিত করা হয়। এই ঘটনা ঘটে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র বাহিনীর মধ্যে পুনরায় ক্ষেপণাস্ত্র বিনিময়ের কয়েক ঘণ্টা পর, যা উপসাগরীয় অঞ্চলে বিদ্যমান উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। কুয়েতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৌদ আবদুল আজিজ আল-ওতাইবি বলেন, “কয়েকটি শত্রুতাপূর্ণ ড্রোন” কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকে লক্ষ্য করে হামলা চালায়, যাতে যাত্রী ভবনের ব্যাপক ক্ষতি হয় এবং বেশ কয়েকজন আহত হন।

উল্লেখ্য, আঞ্চলিক সংঘাতের কারণে বিমানবন্দরটি ১ জুন পুনরায় চালু হওয়ার কিছুদিনের মধ্যেই এই হামলার ঘটনা ঘটে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টা হামলা

মঙ্গলবার রাতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী জানায়, তারা ইরানের একটি সামরিক স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, ইরান থেকে নিক্ষিপ্ত ক্ষেপণাস্ত্র কুয়েত ও বাহরাইনকে লক্ষ্য করে ছিল। তাদের মতে, কুয়েতের দিকে আসা দুটি ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র মধ্যাকাশে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়, অন্যদিকে বাহরাইনকে লক্ষ্য করে আসা ক্ষেপণাস্ত্রগুলো প্রতিহত করা হয়। যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড আরও জানায়, তারা কুয়েতে অবস্থানরত মার্কিন বাহিনীর দিকে ছোঁড়া একাধিক ড্রোন ধ্বংস করেছে।

ইরানের দাবি

অন্যদিকে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী জানিয়েছে, তারা বাহরাইনে যুক্তরাষ্ট্র নৌবাহিনীর পঞ্চম ফ্লিটের সদর দপ্তর এবং আরেকটি স্থান লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে, তবে তারা কুয়েতের নাম উল্লেখ করেনি। তারা বলেছে, যুক্তরাষ্ট্রের একটি ইরানি তেল ট্যাংকারে পূর্ববর্তী হামলার জবাবে এই হামলা চালানো হয়েছে। এক বিবৃতিতে তারা বলেছে, “আমরা আগেই সতর্ক করেছিলাম যে কোনো আগ্রাসনের জবাব আরও শক্তিশালী হবে।”