বিশ্বের সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ মাউন্ট এভারেস্টে অনন্য এক রেকর্ড গড়েছেন ব্রিটিশ পর্বতারোহী কেন্টন কুল। শুক্রবার (২২ মে) ভোরের আলো ফোটার আগেই বিশ্বের এই সর্বোচ্চ চূড়ায় পা রাখেন তিনি। এর মাধ্যমে কোনো বিদেশি (অ-শেরপা) পর্বতারোহী হিসেবে সর্বোচ্চ ২০ বার এভারেস্ট জয়ের নিজের রেকর্ডটি আরও উঁচুতে নিয়ে গেলেন তিনি। তবে এই রেকর্ডের আনন্দের মধ্যেই পাহাড়টিতে নেমে এসেছে শোকের ছায়া; এভারেস্ট জয় করে নামার সময় দুই ভারতীয় পর্বতারোহীর মৃত্যু হয়েছে।
কেন্টন কুলের রেকর্ড আরোহণ
কেন্টন কুলের বয়স এখন ৫২ বছর। শুক্রবার ভোরে ৮ হাজার ৮৪৯ মিটার (২৯ হাজার ৩২ ফুট) উঁচু চূড়ায় আরোহণের পর তিনি নিচে নেমে আসতে শুরু করেন। তার অভিযানের আয়োজকেরা জানিয়েছেন, চলতি সপ্তাহান্তের মধ্যেই তিনি বেস ক্যাম্পে (পাদদেশ) পৌঁছাতে পারবেন।
কেন্টন কুল ২০০৪ সালে প্রথম এভারেস্ট জয় করেন। এরপর থেকে বিভিন্ন কারণে কর্তৃপক্ষ পাহাড়টি বন্ধ রাখার বছরগুলো বাদে প্রতি বছরই তিনি এ চূড়ায় উঠেছেন। তবে ২০ বার উঠলেও এভারেস্ট জয় করা তার কাছে কোনো রুটিন কাজ মনে হয় না। এক বিবৃতিতে কুল বলেন, 'এটি কখনোই সহজ হয়ে যায় না কিংবা এর ভয়ংকর রূপ একটুও কমে না। এটি পৃথিবীর সবচেয়ে উঁচু পর্বত, আর এর সাথে জড়িয়ে আছে এক অবিশ্বাস্য রাজকীয় অনুভূতি। এই পরিবেশে নিরাপদে চলার জন্য আমি আমার জীবনের সমস্ত অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগাই। বিংশমবারের মতো চূড়ায় দাঁড়ানোটা সত্যিই অন্যরকম এক বিশেষ অনুভূতি।'
দুই ভারতীয় পর্বতারোহীর মৃত্যু
অন্যদিকে, পর্বত আরোহণ কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার এভারেস্ট চূড়ায় সফলভাবে আরোহণের পর নামার সময় দুই ভারতীয় পর্বতারোহী মারা যান। তাদের একজন ক্যাম্প-২ এলাকায় এবং অন্যজন বিখ্যাত 'হিলারি স্টেপ' এলাকায় মারা যান। এই হিলারি স্টেপ এলাকাটি এভারেস্টের তথাকথিত 'ডেথ জোন' বা মৃত্যু উপত্যকার মধ্যে অবস্থিত, যেখানে বাতাসের অক্সিজেনের মাত্রা বিপজ্জনকভাবে কম থাকে।
তাদের মৃত্যুর বিস্তারিত কারণ এখনও জানা যায়নি। অভিযানের আয়োজক সংস্থা 'পায়োনিয়ার অ্যাডভেঞ্চার'-এর কর্মকর্তা নিবেশ কার্কি বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেন, একজনের মরদেহ অনেক উঁচুতে রয়ে গেছে, আর দ্বিতীয় জনের মরদেহ ক্যাম্প-২ থেকে নিচে নামিয়ে আনার চেষ্টা চলছে। এই দুই ভারতীয় পর্বতারোহীর মৃত্যুর পর চলতি মৌসুমে এভারেস্টে প্রাণহানির সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে পাঁচজনে।
রেকর্ড বই নতুন করে লিখছেন কুল
চারবার এভারেস্ট জয় করা ও অস্ট্রিয়া-ভিত্তিক সংস্থা 'ফুর্টেনবাখ অ্যাডভেঞ্চারস'-এর প্রধান লুকাস ফুর্টেনবাখ বেস ক্যাম্প থেকে রয়টার্সকে বলেন, 'কেন্টন কুল অত্যন্ত নীরবে রেকর্ড বই নতুন করে লিখছেন। শেরপাদের বাইরে বিশ্বের যেকোনো মানুষের চেয়ে তিনি বেশিবার এভারেস্টের চূড়ায় পা রেখেছেন। অথচ তাকে দেখে মনে হয়, তিনি যেন পাহাড়ের ঢাল বেয়ে সাধারণ এক সান্ধ্যকালীন ভ্রমণে বের হয়েছেন। তিনি এক জীবন্ত কিংবদন্তি।'
এভারেস্টের কিছু ঐতিহাসিক তথ্য
- সর্বোচ্চ এভারেস্ট জয়: নেপালের শেরপা কামি রিতা বর্তমানে সর্বোচ্চ ৩২ বার এভারেস্ট জয়ের বিশ্বরেকর্ডের অধিকারী।
- প্রথম আরোহণ: ১৯৫৩ সালে নিউজিল্যান্ডের স্যার এডমন্ড হিলারি এবং শেরপা তেনজিং নরগে প্রথম এভারেস্ট জয় করেন।
- মোট পর্বতারোহী: প্রথম জয়ের পর থেকে এ পর্যন্ত ৮ হাজারেরও বেশি মানুষ এভারেস্টের চূড়ায় পা রেখেছেন, যাদের অনেকেই একাধিকবার এই কৃতিত্ব অর্জন করেছেন।



