হামের প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় সরকারের বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি শুরু
হামের প্রাদুর্ভাব ক্রমাগত বৃদ্ধি পাওয়ায় সরকার দেশের ১৮টি জেলার ৩০টি উপজেলায় একটি বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি শুরু করেছে। এই কর্মসূচির আওতায় ৬ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সী শিশুদের হাম-রুবেলার টিকা প্রদান করা হবে। উল্লেখ্য, আগে যেসব শিশু টিকা পেয়েছে, তারাও এই চলমান ক্যাম্পেইনে অংশ নিতে পারবে। টিকা প্রদান কার্যক্রম প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত নির্ধারিত কেন্দ্রগুলোতে পরিচালিত হবে।
কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন
আজ রোববার সকাল ৯টায় দেশের ১৮ জেলার ৩০ উপজেলায় একযোগে এই বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি শুরু হয়েছে। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আনুষ্ঠানিকভাবে এই কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মন্ত্রী বলেন, "হামের পরিস্থিতি বর্তমানে সরকারের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। সাধারণ মানুষের আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই। মূলত যেসব এলাকায় সম্প্রতি হামের প্রকোপ বেশি দেখা গেছে, সেসব ‘হটস্পট’ হিসেবে চিহ্নিত করে টিকাদান কর্মসূচি পরিচালিত হচ্ছে।"
কর্মসূচির আওতাভুক্ত এলাকাসমূহ
বিশেষ টিকাদান কর্মসূচির আওতাভুক্ত এলাকাগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:
- বরগুনা সদর ও পৌরসভা
- পাবনা সদর, পৌরসভা, ঈশ্বরদী, আটঘরিয়া ও বেড়া
- চাঁদপুর সদর, পৌরসভা ও হাইমচর
- কক্সবাজারের মহেশখালী ও রামু
- গাজীপুর সদর
- চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর, পৌরসভা, শিবগঞ্জ ও ভোলাহাট
- নেত্রকোনার আটপাড়া
- ময়মনসিংহ সদর, ত্রিশাল, তারাকান্দা ও শ্রীনগর
- রাজশাহীর গোদাগাড়ী
- বরিশালের মেহেন্দীগঞ্জ ও বাকেরগঞ্জ
- নওগাঁর পোরশা
- যশোর সদর ও পৌরসভা
- নাটোর সদর
- মুন্সিগঞ্জ সদর, পৌরসভা ও লৌহজং
- মাদারীপুর সদর ও পৌরসভা
- ঢাকার নবাবগঞ্জ
- ঝালকাঠির নলছিটি
- শরীয়তপুরের জাজিরা
টিকা প্রদানের নির্দেশনা ও অতিরিক্ত ব্যবস্থা
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে যে, যেসব শিশুর জ্বর রয়েছে বা বর্তমানে অসুস্থ, তাদের এই সময়ে টিকা না দিয়ে সুস্থ হওয়ার পর টিকা প্রদান করা উচিত। পাশাপাশি, স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন জানান, টিকাদান কর্মসূচির পাশাপাশি আক্রান্ত বা জ্বর আছে এমন শিশুদের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল দেওয়া হবে। তবে সুস্থ শিশুদের ক্ষেত্রে শুধু টিকাই দেওয়া হবে, অতিরিক্ত কোনো ওষুধ প্রদান করা হবে না।
কর্মসূচির বিস্তার ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন যে, এই টিকাদান কর্মসূচি একটি চলমান প্রক্রিয়া। প্রাথমিকভাবে উচ্চঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে কার্যক্রম শুরু হলেও ধীরে ধীরে তা সারা দেশে সম্প্রসারণ করা হবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, জুলাই মাসের মধ্যে এই কর্মসূচি নিয়মিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে চালু থাকবে। টিকা প্রদান কেন্দ্র হিসেবে আগের টিকাদান কেন্দ্রগুলো ছাড়াও স্থানীয়ভাবে নির্ধারিত স্থান, স্কুল ও কমিউনিটি সেন্টার ব্যবহার করা হবে, যা শিশুদের জন্য সহজলভ্যতা নিশ্চিত করবে।
এই বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি হামের প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যা শিশু স্বাস্থ্য সুরক্ষায় সরকারের অঙ্গীকারকে প্রতিফলিত করে।



