আগামীকাল থেকে শুরু হচ্ছে জরুরি হাম-রুবেলা টিকাদান, ৩০ উপজেলায় শিশুদের অগ্রাধিকার
জরুরি হাম-রুবেলা টিকাদান শুরু, ৩০ উপজেলায় শিশুদের অগ্রাধিকার

আগামীকাল থেকে শুরু হচ্ছে জরুরি হাম-রুবেলা টিকাদান কর্মসূচি

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন আজ শনিবার সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে ঘোষণা দিয়েছেন যে, আগামীকাল রোববার সকাল ৯টা থেকে দেশের ১৮ জেলার ৩০টি উপজেলায় জরুরি হাম-রুবেলা টিকাদান কর্মসূচি শুরু হবে। এই কর্মসূচির আওতায় প্রাথমিকভাবে ৬ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সী শিশুদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে টিকা প্রদান করা হবে।

টিকাদানের লক্ষ্য ও পরিকল্পনা

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের পরামর্শে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা চিহ্নিত করে এই কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন যে, হাম আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে প্রায় ৮২ শতাংশই ছয় মাস থেকে পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশু। এ কারণে প্রথম পর্যায়ে এই বয়সসীমার সব শিশুকে টিকার আওতায় আনা হচ্ছে, আগে টিকা নেওয়া থাকুক বা না থাকুক।

টিকাদান কর্মসূচি প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত চলবে। নির্ধারিত কেন্দ্রগুলোর মধ্যে আগের টিকাদান কেন্দ্র ছাড়াও স্থানীয়ভাবে নির্ধারিত স্থান, স্কুল ও কমিউনিটি সেন্টার অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

উপজেলার তালিকা ও পরিচালনা

প্রাথমিক পর্যায়ে টিকাদান কর্মসূচির জন্য নির্বাচিত ৩০টি উপজেলা হলো:

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
  • রাজশাহীর গোদাগাড়ী
  • ঢাকার নবাবগঞ্জ
  • মুন্সিগঞ্জের লৌহজং, সদর ও শ্রীনগর
  • ঝালকাঠির নলছিটি
  • ময়মনসিংহের ত্রিশাল, সদর ও ফুলপুর
  • চাঁদপুরের হাইমচর ও সদর
  • বরিশালের মেহেন্দীগঞ্জ ও বাকেরগঞ্জ
  • পাবনার ঈশ্বরদী, সদর, আটঘরিয়া ও বেড়া
  • নওগাঁর পোরশা
  • গাজীপুর সদর
  • নেত্রকোনার আটপাড়া
  • শরীয়তপুরের জাজিরা
  • বরগুনা সদর
  • মাদারীপুর সদর
  • কক্সবাজারের মহেশখালী ও রামু
  • চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর, শিবগঞ্জ, ভোলাহাট
  • নাটোর সদর
  • যশোর সদর

কর্মসূচির উদ্বোধনী দিনে পাঁচটি স্থানে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সরাসরি উপস্থিত থাকবেন এবং বাকি উপজেলাগুলোতে স্থানীয় প্রশাসন ও সিভিল সার্জনরা কার্যক্রম পরিচালনা করবেন।

সতর্কতা ও অতিরিক্ত ব্যবস্থা

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, যেসব শিশুর জ্বর রয়েছে বা বর্তমানে অসুস্থ, তাদেরকে এ সময় টিকা না দিয়ে, সুস্থ হওয়ার পর টিকা প্রদানের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া, টিকাদান কর্মসূচির পাশাপাশি হাম আক্রান্ত বা জ্বরে আক্রান্ত শিশুদের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল দেওয়া হবে। তবে সুস্থ শিশুদের ক্ষেত্রে শুধু টিকাই দেওয়া হবে, অতিরিক্ত কোনো ওষুধ দেওয়া হবে না।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, এটি একটি চলমান প্রক্রিয়া। প্রাথমিকভাবে উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে কার্যক্রম শুরু হলেও ধীরে ধীরে সারা দেশে সম্প্রসারণ করা হবে। জুলাই মাসের মধ্যে এটি নিয়মিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে চালু থাকবে।

২০২৫ সালে টিকাদানের হার কমে যাওয়ার বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, অতীতের বিষয় নিয়ে তদন্তে সময় নষ্ট না করে বর্তমানে শিশুদের সুরক্ষাই সরকারের প্রধান লক্ষ্য।

সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী এম এ মুহিত, জনস্বাস্থ্যবিশেষজ্ঞ এস এম জিয়াউদ্দিন, স্বাস্থ্যসচিব কামরুজ্জামান চৌধুরী ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস প্রমুখ।