বংশালে আবাসিক হোটেল থেকে যুবকের লাশ উদ্ধার, মাদক সেবনের সন্দেহ
বংশালে আবাসিক হোটেল থেকে যুবকের লাশ উদ্ধার

রাজধানীর বংশালের সিদ্দিক বাজার এলাকায় অবস্থিত ঢাকা প্যালেস নামে একটি আবাসিক হোটেলের চতুর্থ তলার ১২১ নম্বর কক্ষ থেকে মো. শামিম হাসনাত (৪৬) নামে এক ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) সকালে এ ঘটনা ঘটে। নিহত শামিম হাসনাত কিশোরগঞ্জ জেলার বাজিতপুর উপজেলার শশেয়দিঘী গ্রামের বাসিন্দা এবং তার বাবার নাম মৃত আবুল কাশেম।

লাশ উদ্ধারের ঘটনা ও প্রাথমিক তদন্ত

বংশাল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ কে এম মাহফুজুল হক জানান, সকালে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ওই ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করে। প্রাথমিক তদন্তে তার শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। পরে আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে ময়নাতদন্তের জন্য লাশ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

হোটেল কর্তৃপক্ষ ও প্রত্যক্ষদর্শীর বক্তব্য

হোটেল কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে জানা গেছে, গত ঈদের পর থেকে শামিম হাসনাত ওই হোটেলের কক্ষটি ভাড়া নিয়ে বসবাস করছিলেন। তিনি কোনো পেশায় নিয়োজিত ছিলেন না বলে জানা গেছে। তার ভাইয়ের জুতার দোকান থেকে অর্থ নিয়ে চলাফেরা করতেন। তবে তিনি কী কাজ করতেন সে বিষয়ে পুলিশ নিশ্চিত হতে পারেনি।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

আবাসিক হোটেলের মালিক মো. আবদুল কাদির জানান, বুধবার রাত থেকেই কক্ষটি বন্ধ ছিল। বৃহস্পতিবার সকালে হোটেলের ঝাড়ুদার সাহিদা বেগম কক্ষের দরজায় ধাক্কা দিলে ভেতরে বিবস্ত্র অবস্থায় ওই ব্যক্তিকে পড়ে থাকতে দেখেন। পরে বিষয়টি হোটেল কর্তৃপক্ষ স্থানীয় থানায় জানায়।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

পরিবারের তথ্য ও মাদকাসক্তি

নিহতের বড় ভাই মোশারফ হোসেন জানান, শামিম কোনো কাজকর্ম করতেন না এবং তার কাছ থেকে হাতখরচ নিয়ে চলতেন। প্রায় ১০ বছর আগে তিনি বিয়ে করেছিলেন। তবে বিয়ের মাত্র দুই মাসের মাথায় তাদের বিবাহবিচ্ছেদ হয়। তিনি নিয়মিত ইয়াবা সেবনে আসক্ত ছিলেন। এ কারণে ২০১৮ সালে বাবা তাকে বাড়ি থেকে বের করে দেন। বৃহস্পতিবার কর্মস্থলে থাকা অবস্থায় ফোনে তিনি জানতে পারেন, তার ছোট ভাই হোটেলের কক্ষে মৃত অবস্থায় পড়ে আছেন।

মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে পুলিশের ধারণা

পুলিশ প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে, অতিরিক্ত মাদক সেবনের কারণে তার মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে। তবে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।