প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শনিবার বলেছেন, সবার সম্মিলিত অংশগ্রহণের মাধ্যমে তামাকমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে তাঁর সরকার বদ্ধপরিকর।
সরকারের অঙ্গীকার
বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবস ২০২৬ উপলক্ষে দেওয়া এক বাণীতে প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'আমরা সবার সম্মিলিত অংশগ্রহণ এবং সরকারের সমন্বিত প্রচেষ্টায় একটি সুস্থ, কার্যকরী ও তামাকমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ।'
তিনি আরও বলেন, 'বাংলাদেশসহ বিশ্বের অন্যান্য দেশে বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবস ২০২৬ পালিত হচ্ছে। আমি মনে করি, এ বছরের প্রতিপাদ্য 'আকর্ষণের মুখোশ উন্মোচন: নিকোটিন ও তামাক আসক্তি মোকাবিলা' সময়োপযোগী হয়েছে।'
তামাকের ক্ষতিকর প্রভাব
প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, তামাকে থাকা নিকোটিন মারাত্মক আসক্তি সৃষ্টি করে। বিড়ি, সিগারেট, ই-সিগারেট, জর্দা ও গুলসহ যেকোনো তামাক ও নিকোটিন পণ্যের ব্যবহার হৃদরোগ, স্ট্রোক, বিভিন্ন ধরনের ক্যান্সার ও দীর্ঘস্থায়ী ফুসফুসের রোগসহ অসংক্রামক রোগের অন্যতম প্রধান কারণ।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য উদ্ধৃত করে তিনি জানান, বাংলাদেশে মোট মৃত্যুর প্রায় ৭১ শতাংশ ঘটে অসংক্রামক রোগের কারণে। এসব রোগের প্রধান ঝুঁকির কারণ হলো তামাক ও নিকোটিন ব্যবহার।
তামাক অ্যাটলাস ২০২৫ অনুযায়ী, বাংলাদেশে প্রতি বছর তামাকজনিত রোগে ১ লাখ ৯৯ হাজারের বেশি মানুষ মারা যায়।
অর্থনৈতিক ক্ষতি
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইনস্টিটিউটের এক গবেষণার উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তামাক ব্যবহারের কারণে স্বাস্থ্যখরচ, পরিবেশগত ক্ষতি ও উৎপাদনশীলতা হ্রাসসহ দেশের অর্থনীতির বার্ষিক ক্ষতি ৮৭ হাজার কোটি টাকারও বেশি।
তামাক নিয়ন্ত্রণে সরকারের পদক্ষেপ
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, শিশু ও কিশোরসহ ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে তামাক ও নিকোটিনের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে রক্ষা করতে তাঁর সরকার বদ্ধপরিকর। জনস্বাস্থ্য রক্ষায় বাংলাদেশ ২০০৩ সালে এফসিটিসি স্বাক্ষর করে, ২০০৪ সালে তা অনুমোদন করে এবং ২০০৫ সালে তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন প্রণয়ন করে। এর ধারাবাহিকতায় তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন আরও শক্তিশালী করতে সংশোধনী আনা হয়েছে।
শিশু ও কিশোরদের তামাক ব্যবহারের প্রলোভন থেকে রক্ষায় সব ধরনের তামাক পণ্যের বিজ্ঞাপন, প্রচার ও প্রসার নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়া, ইন্টারনেট, সামাজিক মাধ্যম, অ্যাপ, ওটিটি প্ল্যাটফর্ম, নাটক ও সিনেমাসহ সব মাধ্যমে তামাক বিজ্ঞাপন নিষিদ্ধ।
সিএসআরের আড়ালে বিজ্ঞাপন নিষিদ্ধ
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, কর্পোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতার (সিএসআর) আড়ালে তামাক কোম্পানির বিজ্ঞাপনও নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, ক্লিনিক, ক্রীড়া ভেন্যু ও শিশু পার্কের ১০০ মিটারের মধ্যে তামাক বিক্রি নিষিদ্ধ।
এছাড়া, ১৮ বছরের নিচে কারও কাছে তামাক ও নিকোটিন পণ্য বিক্রি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। পাবলিক প্লেস ও পাবলিক ট্রান্সপোর্টে ধূমপান ও ধোঁয়াবিহীন তামাক সেবন নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
আইনের বিভিন্ন ধারা লঙ্ঘনের শাস্তি ও জরিমানাও বাড়ানো হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, তামাক ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে নতুন নিয়ম কার্যকর বাস্তবায়ন ও জনসচেতনতা বাড়ানো সময়ের দাবি।
বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবস ২০২৬ উপলক্ষে গৃহীত কর্মসূচির সাফল্য কামনা করেন প্রধানমন্ত্রী।



