পাইলটিং প্রকল্প হিসেবে রাজধানীর দুটি হাসপাতালে পরীক্ষামূলকভাবে ‘পাগলাঘণ্টা’ বসানোর পরিকল্পনা করেছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। আজ মঙ্গলবার (১৯ মে) বিকালে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে স্বাস্থ্য অধিদফতরের আওতাধীন কেন্দ্রীয় ঔষধাগারে (সিএমএসডি) এক অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে এমন পরিকল্পনার কথা জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন।
স্বাস্থ্যমন্ত্রীর এই ঘোষণার পর আলোচনায় এসেছে— এই পাগলাঘণ্টা আসলে কী, এটা হাসপাতালেই বা দরকার পড়ছে কেন। তবে এর উত্তরও ওই অনুষ্ঠানেই জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, হাসপাতালের নিরাপত্তা নিশ্চিতে এই পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
আক্ষরিক অর্থে পাগলাঘণ্টা বলতে ‘পাগলের ঘণ্টা’ হলেও বাস্তবে এটি আতঙ্ক, বিশৃঙ্খলা বা জরুরি অবস্থার সংকেত হিসেবে ব্যবহৃত হয়। সাধারণত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, কারাগার বা মানসিক হাসপাতালে কোনো বিপজ্জনক পরিস্থিতি হলে এ ধরনের ঘণ্টা বাজানো হয়।
এর আগে, রোগীর মৃত্যুর জন্য চিকিৎসকের অবহেলার অভিযোগ এনে ১৫ মে রাতে শরীয়তপুরে হামলার শিকার হন ডা. নাসির ইসলাম নামে এক চিকিৎসক। হামলার পর গুরুতর আহত অবস্থায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকায় আনা হয়। এর একদিন আগে হত্যার হুমকি দিয়ে উড়োচিঠি পাঠানো হয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. জাহিদ রায়হানকে। চিঠিতে তার পুরো পরিবার শেষ করে দেওয়ারও হুমকি দেওয়া হয়।
গতকাল সোমবার (১৮ মে) রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালেও এক রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. রায়হান রাব্বানীকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার ঘটনা ঘটেছে। পরপর কয়েকটি এমন ঘটনার পর নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে সোচ্চার হতে দেখা গেছে চিকিৎসকদের। অনেকেই নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে সোশ্যাল মিডিয়ায় সরব হয়েছেন।
এসব ঘটনায় উদ্বেগ, তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ, ড্যাবের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অধ্যাপক ডা. মো. আবুল কেনান এবং মহাসচিব ডা. মো. জহিরুল ইসলাম শাকিলও। এমন পরিস্থিতিতেই এ নিয়ে উদ্যোগের কথা জানালেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।
এ উদ্যোগের বিষয়ে পুরোপুরি নিশ্চয়তা না দিলেও স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা পাইলটিং স্কিমে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল ও সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে পাগলাঘণ্টার ব্যবস্থা করার জন্য পরিকল্পনা গ্রহণ করেছি। কোনোরকমভাবে আমি গিয়েও যদি কোনও একটা আঘাত করি, যদি নিরাপত্তাহীনতায় আমার ডাক্তাররা বা রোগীরা ভোগেন; পাগলাঘণ্টা বাজালে যাতে সব ডাক্তাররা একত্রিত হয়।’
তিনি বলেন, ‘ইমার্জেন্সি অ্যালার্ম; এটাকে আমি বাংলায় বললাম পাগলাঘণ্টা। ইমার্জেন্সি অ্যালার্ম, সেন্ট্রাল অ্যালার্ম সিস্টেমে আমরা আনার চেষ্টা করছি, টু এনসিওর দ্য সিকিউরিটি।’



