নড়াইল সদর উপজেলার মাইজপাড়া ইউনিয়নের কালুখালী গ্রামে এক গৃহবধূ একসঙ্গে সাত সন্তানের জন্ম দিয়েছেন। তবে শেষ পর্যন্ত কোনো নবজাতককে বাঁচানো সম্ভব হয়নি। বৃহস্পতিবার নবজাতকদের পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে।
দশ বছরের অপেক্ষা শেষে সাত সন্তান
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কালুখালী গ্রামের লতিফ মোল্যার ছেলে মহসিন মোল্যা দশ বছর আগে সালমা বেগমকে বিয়ে করেন। বিয়ের পর তিনি সৌদি আরব ও মালয়েশিয়ায় সাত বছর প্রবাস জীবন কাটান। তিন বছর আগে দেশে ফেরেন। দীর্ঘ দশ বছর পর সালমা অন্তঃসত্ত্বা হলে চিকিৎসক জানান, তার গর্ভে ছয়টি সন্তান রয়েছে। তবে প্রসবের সময় দেখা যায়, সাতটি সন্তান জন্ম নিয়েছে।
প্রসবের বিবরণ
গত সোমবার রাতে সালমা বেগমের প্রসব বেদনা উঠলে তাকে দ্রুত যশোরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে মঙ্গলবার রাতে প্রথমে দুটি এবং বুধবার রাতে একে একে আরও পাঁচটি সন্তান প্রসব করেন তিনি। নবজাতকদের মধ্যে চারটি ছেলে ও তিনটি মেয়ে ছিল।
চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, নির্ধারিত সময়ের অনেক আগে (মাত্র সাড়ে পাঁচ মাস) ভূমিষ্ঠ হওয়ায় নবজাতকদের শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন ছিল। যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের গাইনি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. ইলা মণ্ডল জানান, তার তত্ত্বাবধানে চিকিৎসা নিয়েছেন সালমা বেগম। সন্তানগুলো অপরিপক্ব অবস্থায় ভূমিষ্ঠ হয়। সালমার পানি ভেঙে যায়। পাঁচ মাসে প্রতিটি শিশুর ওজন ছিল প্রায় ২০০ গ্রাম। সবার হার্টবিট ছিল, তবে শেষ পর্যন্ত কোনো বাচ্চাকেই বাঁচিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি।
পরিবারে শোক
সালমা বেগমের শাশুড়ি জানান, দীর্ঘ অপেক্ষার পর পুত্রবধূর গর্ভে সন্তানের খবর পেয়ে পরিবারে আনন্দের জোয়ার বইছিল। পুত্রবধূর সেবাযত্নে কোনো কমতি ছিল না। হঠাৎ প্রসব বেদনা শুরু হলে তাকে যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে অন্য একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। মঙ্গলবার রাতে প্রথম সন্তান ভূমিষ্ঠ হওয়ার পর কিছুক্ষণের মধ্যেই মারা যায়। মহসিনের বাবা মৃতদেহটি নিয়ে গ্রামের বাড়িতে চলে আসেন। এরপর রাতে আরও একটি সন্তান প্রসব করেন সালমা, যা কিছুক্ষণ পর মারা যায়। বুধবার রাতে একে একে আরও পাঁচটি সন্তান প্রসব করেন তিনি, জন্মের কিছুক্ষণ পর প্রতিটি শিশুই মারা যায়।
নবজাতকদের দাদা আব্দুল লতিফ মোল্লা অশ্রুসিক্ত কণ্ঠে বলেন, ‘আল্লাহ আমাদের খুশি দিলেও তা আর সইল না। এই কষ্ট রাখার জায়গা নেই।’
গ্রামজুড়ে শোক
মহসিন মোল্লার সাতটি সন্তান হবে—এমন খবর শুনে পুরো গ্রামে কৌতূহল সৃষ্টি হয়েছিল। দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ খবর নিতে আসছিল। কিন্তু শিশুগুলোর মৃত্যুতে পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। ইজিবাইক চালক মহসিন মোল্যার এখন শুধুমাত্র চাওয়া, আল্লাহ যেন তার স্ত্রীকে দ্রুত সুস্থ করে তাদের মাঝে ফিরিয়ে দেন।
বর্তমানে মা সালমা বেগম যশোরের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল বলে জানা গেছে।



