রাতে ব্যথা বাড়ার রহস্য উন্মোচন: জৈবিক ঘড়ির সরাসরি প্রভাব
অনেক মানুষ দীর্ঘস্থায়ী ব্যথায় ভুগে থাকেন, যেখানে দিনের বেলা ব্যথা সহনীয় মাত্রায় থাকে কিন্তু রাতের সময়ে তা তীব্র আকার ধারণ করে। এই ঘটনার পেছনে বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা খুঁজে পেয়েছেন চীনা গবেষকরা। তাদের সাম্প্রতিক গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে যে, আমাদের শরীরের জৈবিক ঘড়ি বা সারকাডিয়ান রিদম সরাসরি ব্যথার তীব্রতার ওপর প্রভাব ফেলে।
মস্তিষ্কের নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রের ভূমিকা
জৈবিক ঘড়ির নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র হলো মস্তিষ্কের সুপ্রাকিয়াসমাটিক নিউক্লিয়াস বা এসসিএন অঞ্চল। এই অঞ্চলটি আমাদের ঘুম, হরমোন নিঃসরণ এবং অন্যান্য দৈনন্দিন কার্যক্রমকে নিয়ন্ত্রণ করে থাকে। গবেষণাটি পরিচালনা করেছেন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি অব চায়নার গবেষক চাং চি এবং বিস্তারিত ফলাফল আন্তর্জাতিক জার্নাল সায়েন্স-এ প্রকাশিত হয়েছে।
স্নায়ুপথ শনাক্তকরণ: একটি যুগান্তকারী আবিষ্কার
এই গবেষণায় প্রথমবারের মতো মস্তিষ্কের এসসিএন অঞ্চল থেকে মেরুদণ্ড পর্যন্ত একটি নির্দিষ্ট স্নায়ুপথ শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে। এই পথের মাধ্যমে মস্তিষ্ক দিনের বিভিন্ন সময়ে ব্যথার সংকেত নিয়ন্ত্রণ করে, যা ব্যথার অনুভূতির তারতম্যের জন্য দায়ী।
ইঁদুরের পরীক্ষায় প্রাপ্ত ফলাফল
ইঁদুরের ওপর পরিচালিত পরীক্ষায় দেখা গেছে, দিনের বেলা যখন তারা বিশ্রাম নেয়, তখন এসসিএন অঞ্চল বেশি সক্রিয় থাকে এবং এই সময়ে ব্যথার সংকেত বৃদ্ধি পায়। অন্যদিকে, রাতের সক্রিয় সময়ে এসসিএন-এর কার্যকলাপ হ্রাস পায়, ফলে ব্যথার অনুভূতি কিছুটা কমে যায়। মানুষের ক্ষেত্রে এই প্রক্রিয়াটি বিপরীতভাবে কাজ করে, যার কারণে রাতে ব্যথা বেশি অনুভূত হয় বলে গবেষকরা উল্লেখ করেছেন।
চিকিৎসায় নতুন সম্ভাবনা
গবেষক দল জানিয়েছেন, ভবিষ্যতে ব্যথার চিকিৎসায় শরীরের জৈবিক সময়কেও বিবেচনায় নিয়ে চিকিৎসা পদ্ধতি উন্নত করা হলে আরও কার্যকর ফলাফল পাওয়া যেতে পারে। এই আবিষ্কার দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা ব্যবস্থাপনায় নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে পারে।
সূত্র: সিনহুয়া



