হামে মৃত্যু ৪০০ ছাড়াল, টিকার বাইরে এখনো বহু শিশু
হামে মৃত্যু ৪০০ ছাড়াল, টিকার বাইরে বহু শিশু

দেশে হামের প্রাদুর্ভাব ও মৃত্যু ক্রমশ উদ্বেগজনক আকার ধারণ করছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে ৭ জন এবং নিশ্চিত হামে ৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে হামের উপসর্গ ও নিশ্চিত হামে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪০৯ জনে। এর মধ্যে হামের উপসর্গ নিয়ে ৩৪৪ জন এবং নিশ্চিত হামে ৬৫ জনের মৃত্যু হয়েছে।

টিকার ক্যাম্পেইন চলছে, কিন্তু সব শিশু পাচ্ছে না

পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার সারা দেশে হামের টিকার ক্যাম্পেইন শুরু করলেও সব শিশু টিকার আওতায় আসছে না। ইউনিসেফের দ্রুত যাচাই পদ্ধতি (আরসিএম) থেকে দেখা যাচ্ছে, শহর এলাকায় এখনও ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ এবং গ্রাম এলাকায় ১৫ শতাংশ শিশু টিকা পায়নি। রাজধানীর কাঁঠালবাগান এলাকার একটি বাড়িতে ১৪টি পরিবার বাস করে, যেখানে ছয় মাস থেকে পাঁচ বছর বয়সী পাঁচটি শিশু রয়েছে। এলাকার খান হাসান আদর্শ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে টিকা নেওয়া সত্ত্বেও কিছু শিশু বাদ পড়েছে।

প্রচারের অভাবে বাদ পড়ছে শিশুরা

জনস্বাস্থ্যবিদ ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগনিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রের সাবেক পরিচালক অধ্যাপক বে-নজীর আহমেদ বলেন, টিকার ব্যাপারে প্রচার-প্রচারণার ঘাটতি রয়েছে। মানুষের মধ্যে দ্বিধা দেখা দিয়েছে, বিশেষ করে টিকার বয়স ৯ মাস থেকে কমিয়ে ৬ মাস করার কারণে। মায়েদের মনে শিশুর ক্ষতি হবে কি না, সেই আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। অথচ স্বাস্থ্যকর্মীদের সঙ্গে মায়েদের মুখোমুখি যোগাযোগের মাধ্যমে এই দ্বিধা দূর করা সম্ভব ছিল, কিন্তু তা হয়নি।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

রাজধানীর শাহজাহানপুর এলাকার গাজী বস্তিতে টিকা না পাওয়া শিশুর খোঁজ মিলেছে। সাত মাস বয়সী আয়েশা মনির বাবা সানোয়ার হোসেন জানান, মুঠোফোনে কিছু ভিডিও দেখে তিনি টিকার বিষয়ে নিরুৎসাহিত হয়েছেন। সুমাইয়া বেগম মনে করেন টিকার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া আছে, তাই তিনি তার দুই সন্তানকে টিকা দেননি। এই বস্তিতে ১০টি পরিবারের মধ্যে তিনটি শিশু টিকা পেয়েছে, বাকি সাতটি পায়নি।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

শহর ও গ্রামে টিকার বাইরে বহু শিশু

ঢাকা ও ঢাকার বাইরের বিভিন্ন এলাকায় প্রথম আলোর প্রতিবেদকরা ঘুরে দেখেছেন, অনেক শিশু এখনও টিকা পায়নি। মিরপুরের ভাষানটেক বস্তিতে ব্র্যাকের স্বাস্থ্যকর্মীদের সহায়তায় সব শিশু টিকা পেলেও শাহবাগ এলাকায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে আসা এক বাবার আড়াই বছরের মেয়ে কোনো টিকা পায়নি। নরসিংদী থেকে আসা এক দম্পতি অ্যান্টিবায়োটিকের কারণে টিকা দেননি। খুলনার সুন্দরবন সংলগ্ন একটি উপজেলায় দুই শতাধিক শিশু টিকার বাইরে রয়েছে। বরগুনা জেলায় এখনও ৫ শতাংশ শিশু টিকা পায়নি।

বাদ পড়া শিশুদের টিকার আওতায় আনতে উদ্যোগ

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস জানিয়েছেন, বাদ পড়া শিশুদের খুঁজে বের করে টিকা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে শিক্ষক ও নাগরিক সমাজের সহায়তায় স্বাস্থ্যকর্মীরা যেন বাদ পড়া শিশুদের টিকা দিতে পারেন। এ বিষয়ে বাড়তি প্রচারও করা হবে।

জনস্বাস্থ্যবিদ বে-নজীর আহমেদ মনে করেন, বাদ পড়া শিশুদের টিকার আওতায় আনতে ব্যাপক প্রচার দরকার। গণমাধ্যমে প্রচার চালানো, এলাকায় মাইকিং করা, র্যালি আয়োজন করা এবং কেন ছয় মাস বয়সীরা টিকা নেবে তা মানুষকে বোঝানো জরুরি। সবার মধ্যে উদ্দীপনা সৃষ্টি না হলে সব শিশু টিকার আওতায় আসবে না।

উল্লেখ্য, টিকা ক্যাম্পেইনে ১ কোটি ৮০ লাখ ১৬ হাজার ৯১৪ জন শিশুকে টিকাদানের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হলেও এখন পর্যন্ত ৯৯ শতাংশ অর্জিত হয়েছে। তবে আরসিএম পদ্ধতিতে দেখা যাচ্ছে, শহর ও গ্রামে অনেক শিশু টিকার বাইরে রয়ে গেছে।