চিয়া সিডের বিপদ: কাদের জন্য এটি নিরাপদ নয়, জেনে নিন গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
চিয়া সিড আঁশসমৃদ্ধ একটি সুপারফুড হিসেবে পরিচিত, যা নিঃসন্দেহে স্বাস্থ্যকর উপাদান। তবে অতিরিক্ত পরিমাণে আঁশ গ্রহণ করলে পেটের অস্বস্তি, হজমের সমস্যা বা অন্যান্য জটিলতা দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে যাদের ইরিটেবল বাওয়েল সিনড্রোম (আইবিএস) বা ইনফ্ল্যামেটরি বাওয়েল ডিজিজ (আইবিডি) আছে, তাদের ক্ষেত্রে এই সমস্যার ঝুঁকি বেশি।
যাদের জন্য চিয়া সিড বিপজ্জনক হতে পারে
যাদের খাবার গিলতে অসুবিধা হয় বা শারীরিক সমস্যা আছে, তাদের জন্য চিয়া সিড নিরাপদ নাও হতে পারে। এই বীজ খাদ্যনালির কোনো অংশে আটকে যেতে পারে, যা মারাত্মক পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে পারে।
অ্যালার্জি থাকলে চিয়া সিড অবশ্যই এড়িয়ে চলতে হবে। না হলে চুলকানি, ত্বক লাল হয়ে যাওয়া, ফুলে যাওয়া, বমি, পাতলা পায়খানা বা পেটব্যথার মতো সমস্যা হতে পারে। মারাত্মক ক্ষেত্রে গলা চেপে আসার অনুভূতি বা শ্বাসকষ্টও দেখা দিতে পারে।
রক্তচাপ ও ওষুধের সাথে সম্পর্ক
যাদের রক্তচাপ স্বাভাবিকের চেয়ে কম থাকে, তাদের জন্য অধিক পরিমাণ চিয়া সিড ক্ষতিকর। কারণ, চিয়া সিড রক্তচাপ আরও কমিয়ে ফেলার জন্য দায়ী হতে পারে।
যারা রক্ত পাতলা করার বা রক্ত তরল রাখার ওষুধ (যেমন অ্যাসপিরিন) সেবন করেন, তাদের জন্য চিয়া সিড বিপজ্জনক হতে পারে। চিয়া সিডে এমন উপাদান আছে যা রক্তকে তরল রাখতে সাহায্য করে, ফলে ওষুধ এবং চিয়া সিডের মিলিত প্রভাবে রক্ত খুব বেশি পাতলা হয়ে রক্তক্ষরণের ঝুঁকি সৃষ্টি করতে পারে।
ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপের রোগীদের সতর্কতা
ডায়াবেটিস আক্রান্ত ব্যক্তিরা যে ধরনের ওষুধ সেবন করেন, সেসব এবং চিয়া সিডের মিলিত প্রভাবে রক্তের সুগার অনেক কমে যেতে পারে। এই অবস্থাকে হাইপোগ্লাইসেমিয়া বলা হয়, যার প্রাথমিক উপসর্গ হলো শরীর কাঁপা, বুক ধড়ফড় করা, অত্যধিক ঘাম হওয়া, মাথাব্যথা, মাথা ঘোরা এবং প্রচণ্ড ক্ষুধা। মারাত্মক পর্যায়ে খিঁচুনি, জ্ঞান হারানো বা মৃত্যুও হতে পারে।
উচ্চ রক্তচাপের রোগীদের রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণের জন্য যেসব ওষুধ দেওয়া হয়, সেসবের সঙ্গে চিয়া সিড খাওয়া হলে রক্তচাপ অতিরিক্ত কমে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে। তাই এই ক্ষেত্রেও সতর্কতা প্রয়োজন।
চিয়া সিড খাওয়ার সঠিক পদ্ধতি
একজন সুস্থ ব্যক্তি চিয়া সিড যোগ করতে চাইতেই পারেন, তবে একটানা দীর্ঘদিন না খাওয়াই ভালো। বরং সপ্তাহে দু-তিন দিন খাওয়া যেতে পারে। চিয়া সিড খাওয়ার আগে অবশ্যই ভালোভাবে ভিজিয়ে নিতে হবে।
এক টেবিল চামচ চিয়া সিড ভেজানোর জন্য তিন টেবিল চামচ পানি বা দুধ দরকার হয়। খাওয়ার আগে ১০-১৫ মিনিটের জন্য চিয়া সিড ভিজিয়ে রাখুন। শুকনা অবস্থায় চিয়া সিড খাবেন না, তবে গুঁড়া করে অন্য কিছুর সঙ্গে মিশিয়েও নেওয়া যেতে পারে।
পরিমাণের দিকটাও খেয়াল রাখতে হবে। কারও পক্ষেই এক দিনে এক-দু টেবিল চামচের বেশি চিয়া সিড গ্রহণ করা উচিত নয়। মনে রাখবেন, চিয়া সিড রক্ত তরল রাখতে বা রক্তের সুগার ও রক্তচাপ কমাতে সাহায্য করলেও এটি কোনো ওষুধের বিকল্প নয়। এসব ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ীই ওষুধ গ্রহণ করতে হবে।



