নারায়ণগঞ্জে ৬ বছরের শিশু ধর্ষণ মামলায় এক আসামি কারাগারে, অপরজন হাসপাতালে
নারায়ণগঞ্জে ৬ বছরের শিশু ধর্ষণ: এক আসামি কারাগারে

নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ফতুল্লায় ছয় বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে। এই মামলায় এক আসামিকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। অপর আসামি জনতার পিটুনিতে আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রয়েছেন। শিশুটির জবানবন্দি শেষে তাকে মামলার বাদী মায়ের জিম্মায় দেওয়া হয়েছে।

মামলার বিবরণ

নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে মামলাটি করেছেন শিশুটির মা। দুই আসামি তাদের প্রতিবেশী বলে জানা গেছে। শিশুটির মা বলেন, তাঁর শিশুমেয়েকে নির্যাতনের ঘটনায় দুই আসামির ফাঁসি দাবি করেন, যাতে ভবিষ্যতে কেউ কোনো শিশুর প্রতি এমন নির্মম নির্যাতন করতে সাহস না পায়। প্রশাসনের লোকজনও ন্যায়বিচারের আশ্বাস দিয়েছেন।

আদালতের কার্যক্রম

নারায়ণগঞ্জ আদালত পুলিশের পরিদর্শক আবদুস সামাদ জানান, ধর্ষণের অভিযোগের মামলায় আদালত সোহেল (২২) নামের এক আসামিকে কারাগারে পাঠিয়েছেন। ফৌজদারি কার্যবিধির ২২ ধারায় জবানবন্দি শেষে শিশুটিকে মামলার বাদী মায়ের জিম্মায় দিয়েছেন আদালত।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ঘটনার বিবরণ

এর আগে গতকাল শুক্রবার বিকেলে শিশুটি বাড়ির পাশে খেলার সময় কৌশলে তাকে ডেকে নিয়ে দুই তরুণ যৌন নির্যাতন করেন। পরে শিশুটি বাড়িতে গেলে পরিবারের সদস্যরা টের পেয়ে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। শিশুকে ধর্ষণের খবর ছড়িয়ে পড়লে রাত সাড়ে ১০টার দিকে অভিযুক্ত হিরুকে পিটুনি দেন এলাকাবাসী। খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে তাঁকে গুরুতর অবস্থায় উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে। পরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে হিরুর সহযোগী সোহেলকে আটক করে।

পুলিশ ও প্রশাসনের বক্তব্য

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক-সার্কেল) মো. শামীম হোসেন জানান, গণপিটুনি দেওয়া যুবক হিরু মুমূর্ষু অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন। শিশুটির মায়ের করা মামলায় অপর আসামিকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

শনিবার সকালে ফতুল্লা মডেল থানায় শিশুটির পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে যান জেলা প্রশাসক মো. রায়হান কবির ও পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান মুন্সী, নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম ফয়েজ উদ্দিনসহ কয়েকজন। সেখানে শিশুটির পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন। জেলা প্রশাসক বলেন, ঘটনাটি নেক্কারজনক। ভুক্তভোগী শিশুর পরিবারকে সব রকম আইনি সহায়তা করার আশ্বাস দেন তিনি। জেলা পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান মুন্সী জানান, মামলাটি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে।

চিকিৎসা প্রতিবেদন

নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা জহিরুল ইসলাম জানান, শিশুটির ডাক্তারি পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। দ্রুত প্রতিবেদন দাখিল করা হবে।