রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে ধর্ষণের পর হত্যা করা আট বছরের শিশুটির ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন এবং শিশু ও অভিযুক্ত ব্যক্তির ডিএনএ নমুনা পরীক্ষার প্রতিবেদন তদন্ত কর্মকর্তার কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। আজ শনিবার পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) ফরেনসিক ইউনিট থেকে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তার কাছে ডিএনএ প্রতিবেদন হস্তান্তর করা হয়। রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনও তদন্তকারী কর্মকর্তাকে দেওয়া হয়েছে। ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) প্রথম আলোকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
সিআইডির বক্তব্য
সিআইডির গণমাধ্যম শাখার বিশেষ পুলিশ সুপার জসীম উদ্দিন খান প্রথম আলোকে বলেন, ‘ধর্ষণের শিকার শিশুটি এবং হত্যাকারীর ডিএনএ পরীক্ষার প্রতিবেদন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তার কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। সিআইডির পক্ষ থেকে আজই সব ফরেনসিক প্রতিবেদন দেওয়া হয়েছে।’
পল্লবী থানার ওসির প্রতিক্রিয়া
পল্লবী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাসান বাসির বলেন, ‘সিআইডির কাছ থেকে ডিএনএ প্রতিবেদন পেয়েছি। এ ছাড়া সোহরাওয়ার্দী হাসপাতাল থেকেও ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন আজই আমাদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। আশা করি, আগামীকালের মধ্যেই মামলার অভিযোগপত্র দিতে পারব। আমরা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছি।’
ঘটনার বিবরণ
১৯ মে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে পল্লবীর একটি ভবনের তিনতলার ফ্ল্যাট থেকে আট বছর বয়সী এক কন্যাশিশুর খণ্ডিত লাশ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় শিশুটির বাবা পল্লবী থানায় মামলা করেন। হত্যাকাণ্ডের মূল অভিযুক্ত সোহেল রানা বুধবার আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। জবানবন্দিতে শিশুটিকে ধর্ষণের পর হত্যার কথা স্বীকার করেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি
গত বৃহস্পতিবার রাতে মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শিশুটির পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে যান। আজ শনিবার ময়মনসিংহে এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, এ হত্যার ঘটনায় অপরাধীর সর্বোচ্চ শাস্তি আগামী এক মাসের মধ্যে নিশ্চিত করা হবে। এই নৃশংস ঘটনার পর নিন্দা জানিয়ে বিভিন্ন দল ও সংগঠন ক্ষোভ প্রকাশ করে আসছে। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দ্রুত বিচারের দাবি জানিয়েছে।



