দেশে হামের প্রাদুর্ভাব মোকাবিলা ও শিশুদের সুরক্ষায় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের গৃহীত পদক্ষেপের একটি অগ্রগতি প্রতিবেদন আগামী ৩০ দিনের মধ্যে আদালতে দাখিল করতে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। মঙ্গলবার (১৯ মে) বিচারপতি রাজিক আল জলিল ও বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীর হাইকোর্ট বেঞ্চ এই আদেশ প্রদান করেন। একইসঙ্গে একটি রুল জারি করে হামের প্রাদুর্ভাবের মূল কারণ ও দায়ী ব্যক্তিদের চিহ্নিত করতে কেন ১০ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়েছে।
তদন্ত কমিটি গঠনের প্রস্তাব
রুলে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও), জাতিসংঘ শিশু তহবিল (ইউনিসেফ) এবং রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) প্রতিনিধি সমন্বয়ে একটি তদন্ত কমিটি গঠনের প্রস্তাব করা হয়েছে। এছাড়া হামের প্রাদুর্ভাবে মারা যাওয়া শিশুদের প্রত্যেকের পরিবারকে পর্যাপ্ত ক্ষতিপূরণ প্রদানের নির্দেশনা কেন দেওয়া হবে না, তাও জানতে চাওয়া হয়েছে।
আদালতের নির্দেশনা
স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব, স্বরাষ্ট্রসচিব, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ও আইইডিসিআরের পরিচালককে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে। আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী ব্যারিস্টার খান মোহাম্মদ শামীম আজিজ। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল।
রিট আবেদনের প্রেক্ষাপট
গত ১০ মে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার হুমায়ন কবির পল্লব জনস্বার্থে এ রিট দায়ের করেন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে গত দুই মাসে সারা দেশে ৪৭৫ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে নিশ্চিতভাবে হামে মৃত্যু হয়েছে ৭৭ শিশুর এবং হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে ৩৯৮ শিশু।
মৃত্যুর পরিসংখ্যান
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সূত্রে জানা যায়, হামের প্রাদুর্ভাবের কারণে গত দুই মাসে দেশে শিশুমৃত্যুর হার উদ্বেগজনক। হামে আক্রান্ত হয়ে মৃত শিশুদের মধ্যে ৭৭ জনের মৃত্যু নিশ্চিত হওয়া গেলেও বাকি ৩৯৮ জনের মৃত্যু হামের উপসর্গযুক্ত ছিল। এই পরিস্থিতিতে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণের তাগিদ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।



