হামে আক্রান্ত শিশুর চিকিৎসায় জেলা পরিষদের ২০ হাজার টাকা সহায়তা
হামে আক্রান্ত শিশুর চিকিৎসায় জেলা পরিষদের ২০ হাজার টাকা সহায়তা

চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা পরিষদের প্রশাসক মো. হারুনুর রশিদ হামে আক্রান্ত এক শিশুর চিকিৎসায় আর্থিক সহায়তা দিয়েছেন। গতকাল রোববার বিকেলে জেলা পরিষদ কার্যালয়ে তিনি শিশুটির মা শাহিদা খাতুনের হাতে ২০ হাজার টাকার একটি চেক তুলে দেন। এই সহায়তার ফলে চিকিৎসা বন্ধ হওয়ার আশঙ্কা থেকে রক্ষা পেয়েছে পরিবারটি।

শিশুটির শারীরিক অবস্থা ও চিকিৎসা ইতিহাস

শিশুটির বয়স বর্তমানে চার মাস। এর মধ্যে দুই মাসই তাকে হাসপাতালে কাটাতে হয়েছে। প্রথমে ঠান্ডা লাগা, জ্বর, শ্বাসকষ্ট ও নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয় শিশুটি। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি দুই মাস বয়সে তাকে প্রথম রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। একটানা ২০ দিন হাসপাতালে থাকার পর তিন দিন আইসিইউতে রাখা হয়। কিছুটা সুস্থ হলে ডাক্তার ছুটি দেন। কিন্তু বাড়িতে মাত্র দুই দিন থাকার পর গায়ে হাম উঠলে তাকে আবার হাসপাতালে ফিরিয়ে আনা হয়। দ্বিতীয় দফায় ১০ দিন ভর্তি থাকার পর শিশুটিকে আবার আইসিইউতে নেওয়া হয়। সেখানে পাঁচ দিন রাখার পর ওয়ার্ডে পাঠানো হয়। তবে হাম সেরে গেলেও হাম-পরবর্তী জটিলতা দেখা দেয়। নিউমোনিয়া, ঠান্ডা লাগা, ফুসফুসের সমস্যা ও রক্তে জীবাণু ধরা পড়ে। গত ২৬ এপ্রিল পর্যন্ত টানা ১০ দিন আইসিইউতে থাকার পর ৩০ এপ্রিল পরিবারটি হাসপাতাল ছেড়ে চলে যায়।

পরিবারের আর্থিক সংকট

শিশুটির মা শাহিদা খাতুনের বয়স ১৭ বছর। তাঁর স্বামী ডালিম আলী দিনমজুর। গ্রামে কাজ করায় খরচের কারণে তিনি শহরে এসে থাকতে পারেননি। শাহিদার সঙ্গে ছিলেন তাঁর মা পারভীন বেগম ও ছোট বোন সুমাইয়া। শাহিদার বাবা জুয়েল আলী ঢাকায় রিকশা চালান। চিকিৎসার জন্য শাহিদার বাবা তাঁর তিনটি গরু তিন লাখ টাকায় বিক্রি করেন। সব টাকা চিকিৎসায় শেষ হয়ে যাওয়ায় পরিবারটি নিঃস্ব হয়ে পড়ে। প্রথম আলোয় ২৭ এপ্রিল ‘৪ মাসের শিশু ২ মাস ধরে হাসপাতালে, নিঃস্ব পরিবার লড়ছে খরচ জোগাতে’ শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশিত হলে রাজশাহীর বিভাগীয় কমিশনার আ ন ম বজলুর রশীদ ২০ হাজার টাকা পাঠান। সেই টাকা শেষ হলে তারা হাসপাতাল থেকে স্বেচ্ছায় ছুটি নিয়ে বাড়ি চলে যান। তবে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী আগামী তিন মাস শিশুকে নির্ধারিত ইনজেকশন দিতে হবে। সেই টাকা জোগাড় করতে না পেরে অবশেষে জেলা পরিষদের প্রশাসকের সহায়তা পান।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

সহায়তার প্রতিশ্রুতি

চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা পরিষদের প্রশাসক মো. হারুনুর রশিদ বলেন, তিনি শিশুটির চিকিৎসায় সহায়তা করেছেন এবং চিকিৎসা যেন থেমে না যায়, সে বিষয়ে আগামীতেও খোঁজখবর রাখবেন। রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউ ইনচার্জ আবু হেনা মোস্তফা কামাল জানান, আইসিইউতে থাকার সময় পরিবারটি চিকিৎসা বন্ধ করে চলে যেতে চেয়েছিল। তিনি আইসিইউর চিকিৎসার খরচের দায়িত্ব নিয়েছিলেন। পরে সাধারণ ওয়ার্ডে পাঠানোর পর তারা চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্র নিয়ে হাসপাতাল ছেড়ে যান।