আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থার (আইএইএ) প্রধান রাফায়েল গ্রোসি ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি পর্যবেক্ষণের জন্য একটি ‘অত্যন্ত শক্তিশালী যাচাইকরণ ব্যবস্থা’ কার্যকর করার আহ্বান জানিয়েছেন। শুক্রবার (২৬ জুন) ইসরায়েলভিত্তিক সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইসরায়েলের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
আইএইএ প্রধানের বক্তব্য
প্রতিবেদনে বলা হয়, আইএইএর মহাপরিচালক ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে সংস্থাটির পূর্ণ প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন। তার ভাষ্য, ইরান যাতে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে না পারে, তা নিশ্চিত করাই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে হওয়া প্রাথমিক যুদ্ধবিরতি চুক্তির অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য। গ্রোসি বলেন, ‘ইরান জানিয়েছে, তাদের উদ্দেশ্য পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করা নয়। কিন্তু বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার জন্য যত দ্রুত সম্ভব আমাদের একটি অত্যন্ত শক্তিশালী যাচাইকরণ ব্যবস্থা কার্যকর করতে হবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘আইএইএর কাজ কারও উদ্দেশ্য নিয়ে বিচার করা নয়। তবে কোনো বিষয় শুধু মৌখিক বক্তব্যের ভিত্তিতে মেনে নেওয়াও সম্ভব নয়। আমাদের সব জায়গায় যাচাই করতে হবে।’
ইরানের অবস্থান ও পটভূমি
তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচি অস্ত্র তৈরির সক্ষমতা অর্জনের লক্ষ্য নিয়ে পরিচালিত হতে পারে বলে বহু বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্র এবং তার পশ্চিমা মিত্ররা সতর্ক করে আসছে। তবে ইরান সবসময়ই এই দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে। দেশটির দাবি, তাদের এ কর্মসূচি সম্পূর্ণ বেসামরিক উদ্দেশ্যে পরিচালিত হচ্ছে।
আল জাজিরা জানিয়েছে, গত বছরের জুনে ১২ দিনের যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে হামলা চালিয়েছিল। এসব স্থাপনার পরিদর্শনই এখন বড় ধরনের বিরোধের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। ওয়াশিংটন ও তেহরান চলতি মাসের শুরুতে স্বাক্ষরিত ১৪ দফার সমঝোতা স্মারকের ভিত্তিতে একটি স্থায়ী শান্তি চুক্তির লক্ষ্যে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে।
পরিদর্শন নিয়ে জটিলতা
গত বছর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর ইরান আইএইএর সঙ্গে সহযোগিতা স্থগিত করেছিল। তবে সেপ্টেম্বরে তারা পরিদর্শকদের পুনরায় প্রবেশের অনুমতি দিতে সম্মত হয়। এর পর আইএইএর কর্মকর্তারা দেশটির কয়েকটি পারমাণবিক স্থাপনা পরিদর্শনও করেছেন। তবে হামলার শিকার স্থাপনাগুলোতে এখনও পরিদর্শকদের প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়নি। এমনকি দেশটির কাছে থাকা সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত সম্পর্কেও কোনো হিসাব পাওয়া যায়নি।
ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম ঘারিবাবাদি বলেন, আক্রান্ত স্থাপনা ও উপকরণগুলোতে প্রবেশের বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি ‘চূড়ান্ত চুক্তির কাঠামোর মধ্যে’ পরীক্ষা করে সমাধান করা হবে। জাতিসংঘের পরিদর্শনের বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্রের সব নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের ওপর নির্ভর করছে। সূত্র: টাইমস অব ইসরায়েল



