নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় একটি পোশাক কারখানায় ইদ্রিস আলী নামে এক কর্মকর্তার রহস্যজনক মৃত্যুকে ঘিরে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। শ্রমিকরা দাবি করছেন, ইদ্রিস আলীকে হত্যার পর ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। মৃতের পরিবারও একই দাবি জানিয়েছেন। মঙ্গলবার সকালে ফতুল্লার এনায়েতনগর ইউনিয়নের বারৈয়ভোগ এলাকায় অবস্থিত ফারিহা নিট টেক্স গার্মেন্টসে এ ঘটনা ঘটে।
ঘটনার বিবরণ
ঘটনার পর সকাল থেকেই কারখানার শ্রমিকরা কাজ বন্ধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করলে মালিকপক্ষ কারখানা ছুটি ঘোষণা করেন। মৃত ইদ্রিস আলী (৪৩) সোনারগাঁ উপজেলার গোয়ালদীর গ্রামের আবুল কাশেমের ছেলে এবং কারখানাটির সহকারী মহাব্যবস্থাপক (এজিএম) হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
শ্রমিকদের অভিযোগ
শ্রমিকরা জানান, এজিএম ইদ্রিস আলী স্টোরকিপারের দায়িত্ব পালন করতেন। তার সঙ্গে আরও কয়েকজন কর্মকর্তা ও সহকারী ছিলেন। তারা দুর্নীতির জন্য ইদ্রিস আলীকে চাপের মুখে রাখতেন। বিষয়টি কারখানার অনেকেই জানত। শ্রমিকদের ধারণা, অফিসিয়াল সুবিধার জন্যই ইদ্রিস আলীকে হত্যা করে পাইপের সঙ্গে গলায় ফাঁস লাগিয়ে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে।
পরিবারের বক্তব্য
মৃতের স্ত্রী হাফিজা আক্তার বলেন, “আমাদের তিনটি শিশুসন্তান রয়েছে। দুইটি মেয়ে ও একটি ছেলেসন্তান। আমাদের সুখের সংসার ছিল। তিনি আত্মহত্যা করবেন এমন কোনো কারণ নেই। আমাদের এ মৃত্যু নিয়ে সন্দেহ হচ্ছে।”
কারখানা কর্তৃপক্ষের ব্যাখ্যা
কারখানার চেয়ারম্যান ফেরদৌস ভুঁইয়া মামুন বলেন, “ইদ্রিস আলী আমার গ্রামের বাড়ির ছেলে। তাকে এনে আমার কারখানায় চাকরি দিয়েছি। কারখানাতে তার কোনো সমস্যা থাকলে আমাকে জানাত। তবে শুনতে পেরেছি তার স্ত্রী টিকটক করত, যা তার কাছে পছন্দ হতো না। এছাড়া সে বিভিন্ন লোকজনের কাছ থেকে ধারদেনা করেছেন। এ নিয়ে তাদের পারিবারিক সমস্যা ছিল। এসব কারণে হয়তো ইদ্রিস আলী আত্মহত্যা করেছেন।”
পুলিশের অবস্থান
ফতুল্লা মডেল থানার ওসি মাহবুব আলম জানান, লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্ত রিপোর্ট পেলে মৃত্যুর কারণ জানা যাবে। শ্রমিক ও পরিবারের অভিযোগ তদন্ত করা হচ্ছে।



