দেশজুড়ে হামের প্রকোপে হাসপাতালে চাপ, মৃত্যু বাড়ছে
দেশজুড়ে হামের প্রকোপ, হাসপাতালে তীব্র চাপ

দেশব্যাপী হামের প্রকোপে রাজধানীর হাসপাতালগুলোতে তীব্র চাপ সৃষ্টি হয়েছে। বিভিন্ন জেলা থেকে রোগী আসায় মহাখালীর সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালের জরুরি বিভাগ ও ওয়ার্ডগুলো ধারণ ক্ষমতার বাইরে চলে গেছে। বিছানা সংকটে বারান্দা ও সিঁড়িতেও চিকিৎসা দিতে হচ্ছে।

হাসপাতালের বাস্তবতা

হাসপাতালের সুপারিনটেনডেন্ট ডা. এ এফ আসমা খান বলেন, 'এটি শেষ রেফারেল পয়েন্ট হওয়ায় আমরা রোগী ফিরিয়ে দিচ্ছি না। ওয়ার্ড ভর্তি হয়ে গেলে বারান্দা ও মেঝেতেও চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।' ডিউটিরত নার্সরা জানান, সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন হাসপাতাল থেকে রোগী আসছে, যা চাপ আরও বাড়িয়েছে।

জনস্বাস্থ্য专家的 মতামত

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নিয়মিত টিকাদান কার্যক্রমে ফাঁকফোকর এবং ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় দ্রুত সংক্রমণের কারণেই হামের প্রকোপ বেড়েছে। তারা অভিভাবকদের সময়মতো শিশুদের টিকা দেওয়ার এবং উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

চিকিৎসাধীন রোগী

আট মাস বয়সী নুসরাত গত ছয় দিন ধরে হাসপাতালের বারান্দায় চিকিৎসা নিচ্ছে। তার বাবা জানান, ১৬ এপ্রিল জ্বর আসলে প্রথমে ফার্মেসি থেকে ওষুধ দেওয়া হয়, পরে মাতুয়াইল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। হাম শনাক্ত হলে তাকে ঢাকায় রেফার করা হয়। এখন নিউমোনিয়া, শ্বাসকষ্ট ও ১০৩-১০৪ ডিগ্রি ফারেনহাইট জ্বরে ভুগছে।

মাদারীপুরের দশ মাস বয়সী ইমা প্রথমে স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা নেয়। অবস্থার উন্নতি হলেও পরে খিঁচুনি শুরু হয়। মিটফোর্ড হাসপাতালে ২২ এপ্রিল হাম শনাক্ত হওয়ার পর তাকে মহাখালীতে রেফার করা হয়। তার জ্বর ১০৬ ডিগ্রি ফারেনহাইট পর্যন্ত ওঠে এবং মুখে ঘা হয়েছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় হাম ও জটিলতায় ১১ শিশুর মৃত্যু হয়েছে এবং ১ হাজার ২৮৭ জন নতুন রোগী ভর্তি হয়েছে। ১৫ মার্চ থেকে ২৫ এপ্রিল পর্যন্ত ৩০ হাজার ৬০৭ জন সন্দেহভাজন রোগীর মধ্যে ৪ হাজার ৪৬০ জনের হাম নিশ্চিত হয়েছে। এ পর্যন্ত ২০ হাজার ৪৭৫ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন, যার মধ্যে ১৭ হাজার ৮১ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন।

প্রাদুর্ভাব শুরু হওয়ার পর থেকে নিশ্চিত হামে ৪২ শিশু মারা গেছে, আর হাম-জটিলতায় আরও ২০৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জানান, দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে প্রতিদিন নতুন রোগী আসায় হাসপাতালগুলোতে চাপ অব্যাহত রয়েছে।