হবিগঞ্জে দিনদুপুরে পৃথক দুটি স্থানে একই কায়দায় দুই নারী শিক্ষিকাকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে স্বর্ণালঙ্কার ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে। প্রকাশ্যে ছিনতাই, চুরি, সংঘাত, সহিংসতা ও হত্যাকাণ্ডের মতো অপরাধ বৃদ্ধি পাওয়ায় এলাকায় চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। জেলায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতিতে সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ বাড়ছে। বিশেষ করে নারী শিক্ষকদের নিরাপত্তা নিয়ে দেখা দিয়েছে শঙ্কা।
ঘটনার বিবরণ
রবিবার (১৭ মে) সকালে নবীগঞ্জ পৌরসভার জয়নগর এলাকা এবং উপজেলার আউশকান্দি ইউনিয়নের বেতাপুর এলাকায় এ দুটি ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে। একই দিনে একই ধরনের কৌশলে সংঘটিত ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
প্রথম ঘটনা: জয়নগর এলাকা
ভুক্তভোগীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সকাল ৮টার দিকে নবীগঞ্জ সদর ইউনিয়নের সুজাপুর গ্রামের বাসিন্দা ও আউশকান্দি ইউনিয়নের পর্বতপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা শিল্পী রানী পাল স্কুলে যাওয়ার জন্য বাসা থেকে বের হন। জয়নগর এলাকার সড়ক দিয়ে হেঁটে যাওয়ার সময় মোটরসাইকেলযোগে আসা তিন যুবক তার পথরোধ করে। তারা পিস্তল ও রামদা দেখিয়ে তার কানে থাকা প্রায় সাড়ে ৩ আনা ওজনের স্বর্ণের দুল এবং গলায় থাকা প্রায় ৭ আনা ওজনের স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নেয়।
দ্বিতীয় ঘটনা: বেতাপুর এলাকা
একই দিন সকাল সাড়ে ৯টার দিকে বেতাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা লাকী রানী দাস রিকশাযোগে স্কুলে যাওয়ার পথে বিদ্যালয়ের সামনে পৌঁছালে মোটরসাইকেলে থাকা তিন যুবক তার রিকশার গতিরোধ করে। তারা রামদা দেখিয়ে তার গলায় থাকা প্রায় ৬ আনা ওজনের স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নিয়ে যায়।
ভুক্তভোগীদের বক্তব্য
শিক্ষিকা শিল্পী রানী পাল জানান, সকালে স্কুলে যাওয়ার পথে সড়কে রিকশা না পেয়ে হেঁটে যাচ্ছিলেন। এ সময় তিন যুবক মোটরসাইকেলে এসে পিস্তল ও রামদা দেখিয়ে তার গলার চেইন ও কানের দুল টেনে নিয়ে যায়। তিনি বলেন, ‘মোটরসাইকেল চালকের মাথায় হেলমেট থাকলেও অন্য দুজনের মুখ খোলা ছিল। যাওয়ার সময় তারা কাউকে বিষয়টি জানালে হত্যার হুমকি দেয়। এজন্য আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।’
অপর শিক্ষিকা লাকী রানী দাস বলেন, ‘স্কুলের সামনে পৌঁছামাত্র মোটরসাইকেলযোগে আসা তিন যুবক রিকশার গতিরোধ করে। তাদের একজন রামদা উঁচিয়ে ভয় দেখিয়ে আমার গলার স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নেয়। দিনদুপুরে প্রকাশ্যে এমন ঘটনায় আতঙ্কিত আছি।’
শিক্ষক সমাজের প্রতিক্রিয়া
এ ঘটনায় শিক্ষক সমাজেও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। রজনীগন্ধা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও শিক্ষক সমিতির নেত্রী শাহীনূর আক্তার চৌধুরী বলেন, ‘একই দিনে একই কৌশলে দুই নারী শিক্ষিকাকে টার্গেট করে ছিনতাইয়ের ঘটনা উদ্বেগজনক। এতে শিক্ষক সমাজের মধ্যে চরম নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে। দ্রুত দোষীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানাই। নারী শিক্ষকদের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ কামনা করছি।’
আইনগত ব্যবস্থা
দুপুরে দুই শিক্ষিকা বাদী হয়ে এসব ঘটনায় থানায় পৃথক অভিযোগ করেছেন। অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। নবীগঞ্জ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) দুলাল মিয়া বলেন, ‘ছিনতাইয়ের ঘটনায় পৃথক দুটি অভিযোগ গ্রহণ করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ এ বিষয়ে জানতে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মোনায়েম মিয়ার সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।



