ফুটবল বিশ্বকাপের মতো বড় আসর এলেই প্রিয় দলকে ঘিরে উচ্ছ্বাসে মেতে ওঠেন কোটি কোটি মানুষ। প্রিয় দলের জার্সি পরে খেলা দেখা, বন্ধু-পরিবারের সঙ্গে উল্লাস ভাগাভাগি করা—এসবকে অনেকেই শুধু বিনোদন মনে করেন। তবে সাম্প্রতিক গবেষণা বলছে, প্রিয় দলকে সমর্থন করা মানসিক স্বাস্থ্যের জন্যও উপকারী হতে পারে।
একাকীত্ব কমাতে সহায়ক
গবেষণায় দেখা গেছে, প্রায় ৬১ শতাংশ মানুষ একাকীত্ব অনুভব করেন, তবে যারা কোনো নির্দিষ্ট দলের বা বিষয়ের একনিষ্ঠ ভক্ত নন, তারা ভক্তদের তুলনায় বেশি একাকী বোধ করেন। প্রিয় দলকে সমর্থন করা মানুষের মধ্যে একটি সম্প্রদায়ের অংশ হওয়ার অনুভূতি বা ‘সেন্স অফ বিলংগিং’ তৈরি করে। এটি কেবল খেলা দেখার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না। প্রিয় দলকে ঘিরে বন্ধু, পরিবার ও পরিচিতজনদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগও সামাজিক বন্ধনকে আরও দৃঢ় করে।
ফ্যান ফ্লাইহুইল: ইতিবাচক মানসিক প্রভাব
গবেষকেরা ফ্যানডমের এই প্রক্রিয়াকে ‘ফ্যান ফ্লাইহুইল’ নামে উল্লেখ করেছেন। এটি একটি পজিটিভ ফিডব্যাক লুপের মতো কাজ করে। যখন আপনি আপনার প্রিয় দলের কার্যক্রমে অংশ নেন বা খেলা দেখেন, তখন আপনার সামাজিক মিথস্ক্রিয়া বাড়ে। এই সামাজিক যোগাযোগ আপনাকে মানসিকভাবে আনন্দিত করে, যা আপনাকে পুনরায় ফ্যানডমের প্রতি উৎসাহিত করে। একবার এই চক্রটি শুরু হলে এটি ব্যক্তির মানসিক স্বাস্থ্যে ইতিবাচক শক্তির জোগান দিতে থাকে।
যেসব সুফল পাওয়া যেতে পারে
গবেষণায় আরও দেখা গেছে, একনিষ্ঠ সমর্থকদের মধ্যে— পারিবারিক ও সামাজিক সম্পর্ক তুলনামূলক বেশি দৃঢ় হয়। কর্মজীবন ও ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে সন্তুষ্টির মাত্রা বেশি থাকে। সুখ, কৃতজ্ঞতা ও ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি অন্যদের তুলনায় বেশি দেখা যায়।
শুধু খেলাধুলা নয়, সব ধরণের ফ্যানডমই কার্যকর
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই সুফল শুধু খেলাধুলার সমর্থকদের ক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ নয়। গান, সিনেমা, কমিকস, ভিডিও গেম বা কসপ্লের মতো যেকোনো ইতিবাচক ফ্যানডমও একই ধরনের মানসিক উপকার এনে দিতে পারে। কারণ, কোনো একটি সম্প্রদায়ের সঙ্গে যুক্ত থাকার অনুভূতি মানুষকে একাকীত্ব কমাতে এবং মানসিকভাবে আরও সুস্থ থাকতে সাহায্য করে।
তথ্যসূত্র: হেলথ লাইন



