গাজীপুরে তরুণের আত্মহত্যা: ফেসবুকে পোস্টের ১২ ঘণ্টা পর মরদেহ উদ্ধার
গাজীপুরে তরুণের আত্মহত্যা, ফেসবুক পোস্টের পর মরদেহ উদ্ধার

গাজীপুরে তরুণের আত্মহত্যা: ফেসবুক পোস্টের ১২ ঘণ্টা পর মরদেহ উদ্ধার

গাজীপুরের শ্রীপুরে এক তরুণের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তামিম শেখ নামের এই যুবকের বয়স ছিল মাত্র ১৮ বছর। আজ বৃহস্পতিবার সকালে উপজেলার মাওনা দক্ষিণপাড়া এলাকায় তাঁর বাবার অটোরিকশা গ্যারেজ থেকে মরদেহ উদ্ধার করে স্থানীয় পুলিশ।

ঘটনার বিবরণ

পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আজ ভোরে ঘুম থেকে উঠে তামিম বাবার গ্যারেজে যান এবং অটোরিকশা বের করতে সাহায্য করেন। এরপর তিনি পাশের একটি দোকানে গিয়ে নাশতা করেন। সকাল আটটার দিকে তাঁর মুঠোফোনে একটি কল আসে। কিছুক্ষণ পর গ্যারেজের ভেতর তাঁর ঝুলন্ত মরদেহ পাওয়া যায়।

তামিম মাওনা দক্ষিণপাড়া এলাকার রুকন উদ্দিনের ছেলে। দুই বছর আগে তিনি শ্রীপুরের হাজী ছোট কলিম স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে এসএসসি পাস করেন। এরপর একটি ব্যাটারির দোকানে কাজ নেন। পাশাপাশি বাবার অটোরিকশা গ্যারেজে এসে কাজে সহযোগিতা করতেন।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ফেসবুক পোস্ট ও ব্যক্তিগত জীবন

কয়েক দিন ধরে কোনো এক মেয়ের সঙ্গে তামিমের প্রেমের সম্পর্ক চলছিল বলে জানিয়েছেন স্বজনেরা। তামিমের ফেসবুক প্রোফাইল ঘেঁটে দেখা যায়, মরদেহ উদ্ধারের প্রায় ১২ ঘণ্টা আগে তিনি একটি পোস্ট দিয়েছিলেন। সেখানে তিনি একটি ফেসবুক পেজের ভিডিও শেয়ার করেন। ভিডিওটির থাম্বনেইলে লেখা ছিল, ‘পৃথিবীর প্রত্যেকটা মেয়ে বেইমান।’

স্বজনেরা আরও জানান, তামিম একটি মেয়েকে পছন্দ করতেন। দুই পরিবারের সম্মতিতে আগামী কোরবানির ঈদের পর তাঁদের বিয়ের কথা ছিল। সম্প্রতি কোনো বিষয় নিয়ে তাঁদের মধ্যে বিরোধ তৈরি হয়েছিল কি না, তাঁরা জানেন না। প্রায় দুই মাস আগে একটি মামলায় জেল খেটে জামিনে মুক্তি পান তামিম। কারাগার থেকে বের হওয়ার পর থেকেই তিনি বিষণ্ন ও মানসিকভাবে উদ্বিগ্ন থাকতেন বলে জানা গেছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

পুলিশের তদন্ত

শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ নাছির আহমদ বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়। মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। তদন্তের পরিপ্রেক্ষিতে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এই ঘটনা স্থানীয়ভাবে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। মানসিক স্বাস্থ্য ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ব্যবহার নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। পুলিশ বিষয়টি গভীরভাবে তদন্ত করছে বলে জানানো হয়েছে।