অকারণ ভয় কেন হয়? জানুন মুক্তির উপায়
অকারণ ভয় কেন হয়? মুক্তির উপায় জানুন

সবকিছু ঠিকঠাক থাকার পরও অনেক সময় মনের ভেতর অকারণ এক ভয় কাজ করে। অফিসে দায়িত্ব ঠিকভাবে পালন করার পরও বসের বকা শোনার আতঙ্ক, কিংবা পরিবারের সবার ভালোবাসা ও আস্থা পাওয়ার পরও নিজের ইচ্ছাগুলো প্রকাশ করতে দ্বিধা—এমন অনুভূতি অনেকের মধ্যেই দেখা যায়। কখনও কখনও এই ভয় এতটাই গভীরে বাসা বাঁধে যে ঘুমের মধ্যেও অস্থিরতা পিছু ছাড়ে না।

কিন্তু কেন জন্ম নেয় এই অকারণ ভয়? কীসের এত দুশ্চিন্তা আমাদের ভেতরে? মানুষের মনের এই অজানা ভয়, উদ্বেগ ও অস্থিরতার কারণ এবং সেখান থেকে বেরিয়ে আসার উপায় নিয়ে আমাদের নিয়মিত আয়োজনে কথা বলেছেন মনোরোগ চিকিৎসক ডা. আতিকুল হক মজুমদার।

মস্তিষ্কের আদিম স্বভাব

মানুষের মস্তিষ্কের একটি স্বাভাবিক প্রবণতা হলো সম্ভাব্য বিপদের সংকেত খুঁজে বেড়ানো। প্রাচীনকালে বাঘ-ভাল্লুকের যে ভয় ছিল, আধুনিক সময়ে সেই একই মস্তিষ্ক অনেক সাধারণ ঘটনাকেও বড় বিপদ হিসেবে ব্যাখ্যা করে। যেমন—বসের সামান্য মন খারাপ, কারও নেতিবাচক মন্তব্য কিংবা পরিবারের কারও অসম্মতিকে অবচেতন মন অনেক সময় জীবনসংকটের মতো করে নেয়। ফলে বাস্তবে বড় কোনও সমস্যা না থাকলেও ভেতরে ভেতরে অজানা ভয় ও অস্থিরতা তৈরি হয়।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

যান্ত্রিক শিক্ষা ও অন্ধ অনুকরণ

শৈশব থেকেই সমাজ অনেককে এমনভাবে গড়ে তোলে, যেখানে নিজের চাওয়া বা স্বকীয়তার চেয়ে অন্যের মন রক্ষা করাকেই বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়। কীভাবে সবাইকে খুশি রাখা যায়, কীভাবে ভুল না করা যায়—সেই শিক্ষা ছোটবেলা থেকেই অনেকের মধ্যে গড়ে ওঠে। কিন্তু কোনও কাজ কেন করা হচ্ছে, সেটি যৌক্তিক কি না বা নিজের অনুভূতির মূল্য কতটা—সেই বিচারবোধ অনেক সময় তৈরি হয় না। এর ফলে অফিস কিংবা পরিবারে নিজের স্বকীয়তা হারিয়ে ফেলেন অনেকে। সবসময় অন্যের প্রত্যাশা পূরণের চাপ থেকে জন্ম নেয় অকারণ অপরাধবোধ, দুশ্চিন্তা ও অদৃশ্য ভয়।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

নিজের চিন্তা সম্পর্কে অসচেতনতা

অনেক মানুষই নিজের মন ও অনুভূতিকে নিরপেক্ষভাবে পর্যবেক্ষণ করার দক্ষতা গড়ে তুলতে পারেন না। ফলে মনের ভেতরে তৈরি হওয়া সাময়িক ভয়, দুশ্চিন্তা বা আশঙ্কাকেই তারা চূড়ান্ত সত্য বলে ধরে নেন। যেমন—বসের বকা, কারও অপছন্দ কিংবা ছোট কোনও নেতিবাচক অভিজ্ঞতাকে অনেক সময় মন জীবনের বড় সংকট হিসেবে ব্যাখ্যা করে। অথচ বাস্তবে এসব ঘটনা জীবনের শেষ কথা নয়। কিন্তু সচেতনভাবে চিন্তাগুলোকে আলাদা করে দেখতে না পারায় ভয় ও অস্থিরতা আরও গভীর হয়ে ওঠে।

এই ভয় কাটানোর কিছু উপায়

আবেগ সরিয়ে যুক্তি দিয়ে ভাবুন: যখনই মনে অকারণ ভয় আসবে, তাৎক্ষণিক আবেগ দিয়ে চালিত না হয়ে একটু থামুন। নিজেকে যুক্তি দিয়ে প্রশ্ন করুন—‘আমি তো আমার কাজ ঠিকঠাক করেছি, তাহলে এই ভয়ের বাস্তব ভিত্তি কী?’

জীবনের জটিলতাকে মেনে নিন: জীবন কোনও সাজানো বাগান নয়। এটি একটি জটিল বুননের মতো, যার উল্টো পিঠে কিছু জট থাকবেই। অফিসে বসের মেজাজ খারাপ থাকা বা পরিবারে মতভেদ থাকা জীবনের স্বাভাবিক অংশ। এই বাস্তবতাকে সহজভাবে মেনে নিতে পারলে অতিরিক্ত নিখুঁত হওয়ার চাপ কমে যায়।

সবকিছুকে রোগ ভাববেন না: বর্তমানে সামান্য ভয় বা মানসিক অস্বস্তিকেও বড় রোগ হিসেবে দেখার প্রবণতা বাড়ছে। সবকিছুকে রোগ বানিয়ে ফেলার এই প্রবণতা থেকে দূরে থেকে সচেতনতা ও সহানুভূতির মাধ্যমে মনের ভয় মোকাবেলা করা প্রয়োজন।

খোলামেলা আলোচনার পরিবেশ তৈরি করুন: পরিবার ও কর্মক্ষেত্রে এমন একটি আস্থার পরিবেশ গড়ে তোলা জরুরি, যেখানে নিজের দুর্বলতা বা মনের ভয়গুলো খোলামেলাভাবে বলা যায়। অনেক সময় শুধু মনের কথা প্রকাশ করাও অস্থিরতা কমাতে সাহায্য করে।