প্রতীকীছবি: ফ্রিপিক
মানুষের জীবনে হঠাৎ করেই হাসফাস লাগে, অস্থিরতা নেমে আসে। আকাশে যেমন মেঘ ডাকলে জোরে শব্দ হয়ে ঝড়ঝাপটা হয়, মানুষের মনেও তেমনই অশান্তি দেখা দেয়। তবে কেউ কেউ এর ব্যতিক্রম। তারা নীরবে নিঃশব্দে হেঁটে বেড়ায়, নিজের ‘আমি’কে আড়াল করে কাঁদে। ভেতরে তুমুল ভাঙচুর হলেও নিজেকে লুকিয়ে রাখে। বিচিত্র বৈশাখের উপস্থিতিতেও নিখুঁতভাবে উপস্থাপন করে নিজেকে।
ছন্দপতন ও অনিশ্চয়তা
হঠাৎ করেই যখন মোলায়েম জীবনের ঘোরের ভেতর থাকতে থাকতেই ছন্দপতন হয়; তখন জানতে পারে তার দীর্ঘদিনের জমানো গচ্ছিত সুখ বিলিয়ে দিতে হচ্ছে বা হবে। ঠিক যেন কলাগাছের ভেলায় চড়ে অজানা গন্তব্যে পাড়ি দেওয়ার মতো—সে কোথায় যাবে, কার কাছে যাবে, জানে না। এই যে সে এত দিন ধরে আলো জ্বালাত, এটা পুরোপুরি ভুলে যেতে হয় তাকে বা মেনে নিতে হয় যে কখনো কোথাও আলো জ্বালায়নি বা জ্বালাতে পারে না। ঠিক যেন নিজেই নিজের কাছে হেরে যাওয়া। এই হারা আসলে দুঃখের কাছে আত্মসমর্পণ করা।
এই মানুষগুলো অনিশ্চিত পথে হাঁটতে হবে এই ভেবে জলের গ্লাস হাতে নিয়ে ভুলে যায়। সদ্য স্নান করে এসে আবারও যায় স্নানঘরে। আসলে তখন তারা পুরোপুরি বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। একে বলে মেন্টাল ডিজঅর্ডার।
বিপর্যস্ত জীবনের চিত্র
তখন কেউ কেউ এলোমেলো জীবন যাপন করে। কেউ কেউ দিশাহীনতাকে সঙ্গী করেই কত যে রাতজুড়ে নির্লিপ্ত থাকে আর বিষণ্ন কবিতার শব্দ খোঁজে, তাদের অজান্তেই নিঃশব্দে দীর্ঘশ্বাস বেড়িয়ে আসে। তবে কখনো কখনো স্বপ্নে বিভোর হয়ে নির্ভরতার হাত খোঁজে। খোঁজে উজ্জ্বল দীপ্তিমাখা মুখ, আঁজলাভরা সুখ। শুধু একটুকরো প্রশান্তির আশায় দুই হাত বাড়িয়ে দিতে চায়। চায় বিশ্বাসের আলো জ্বলে উঠুক তার হৃদয়জুড়ে, সেরে যাক সমস্ত অসুখ।
বন্ধুদের লেখা থেকে আরও পড়ুন
- জীবন যেমন
- মানুষ
- বন্ধুসভা অণুকথা



