আমের মৌসুমে আম খাওয়ার লোভ সবারই হয়। আত্মীয়স্বজনের বাসায় গেলেও উপহার হিসেবে আম নিয়ে যান অনেকে, আর অতিথিকেও আম খেতে দেওয়া হয়। বাড়িতেও নিয়ম করে আম খাওয়া একটি মৌসুমি অভ্যাস। তবে জানলে আতঙ্কিত হতে পারেন যে বেশি পরিমাণে আম খেলে ইউরিক অ্যাসিড বাড়তে পারে, বিশেষ করে যাদের আগে থেকেই উচ্চ ইউরিক অ্যাসিড বা গাউটের সমস্যা আছে।
আম ও ইউরিক অ্যাসিডের সম্পর্ক
আমে পিউরিনের পরিমাণ কম হলেও এটি সরাসরি পিউরিনের কারণে ইউরিক অ্যাসিড বাড়ায় না, বরং আমের উচ্চ ফ্রুকটোজ (ফলের চিনি) এর জন্য এই সমস্যা হয়। ফ্রুকটোজ যকৃতে বিপাকের সময় পিউরিনের উৎপাদন বাড়িয়ে দেয়, যা ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা বাড়াতে পারে। যাদের ইতিমধ্যে উচ্চ ইউরিক অ্যাসিড বা গাউট আছে, তাদের জন্য এটি ঝুঁকিপূর্ণ।
পরিমিত খাওয়ার কৌশল
বিশেষজ্ঞদের মতে, যাদের ইউরিক অ্যাসিডের সমস্যা আছে তারা দিনে একটি আমের বেশি না খাওয়াই ভালো। আম খাওয়ার সময় প্রচুর পানি পান করা উচিত, কারণ পানি ইউরিক অ্যাসিড দ্রবীভূত করে বের করে দিতে সাহায্য করে। এছাড়া আমের সঙ্গে চর্বি বা প্রোটিন জাতীয় খাবার এড়িয়ে চলা উচিত, কারণ তা ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।
বিশেষ সতর্কতা
গাউট রোগীদের জন্য আম সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ নয়, তবে সতর্কতার সাথে খেতে হবে। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী আম খাওয়ার পরিমাণ নির্ধারণ করা ভালো। এছাড়া ডায়াবেটিস রোগীদের জন্যও আমের উচ্চ ফ্রুকটোজ রক্তে শর্করা বাড়াতে পারে, তাই তাদেরও সতর্ক থাকতে হবে।



