গর্ভাবস্থায় ঝুঁকে কাজ করলে গর্ভপাতের ঝুঁকি ৩৬% বাড়ে
গর্ভাবস্থায় ঝুঁকে কাজ করলে গর্ভপাতের ঝুঁকি বাড়ে

গর্ভাবস্থার শুরুর দিকে কর্মক্ষেত্রে বেশি সময় ঝুঁকে কাজ করা এবং দীর্ঘক্ষণ হাঁটাহাঁটি গর্ভপাতের ঝুঁকি বাড়াতে পারে বলে এক গবেষণায় উঠে এসেছে। ‘অকুপেশনাল অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল মেডিসিন’ সাময়িকীতে এই গবেষণার ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে।

গর্ভপাতের প্রচলিত কারণ

সাধারণত প্রায় ১৫ শতাংশ নারী গর্ভপাতের শিকার হন। এর পেছনে মা-বাবার বয়স, ধূমপান, নাইট শিফট বা রাতে কাজ করা, বায়ু দূষণ এবং বিভিন্ন রাসায়নিক উপাদানের সংস্পর্শে আসাকে অন্যতম কারণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তবে কাজের জায়গায় সামনের দিকে ঝুঁকে থাকা, অতিরিক্ত হাঁটা কিংবা দাঁড়িয়ে থাকাও এই ঝুঁকি বাড়াতে পারে এমন কিছু আভাস আগে পাওয়া গেলেও আগের গবেষণাগুলোর ফলাফল স্পষ্ট ছিল না।

গবেষণার পদ্ধতি

এ বিষয়টি আরও ভালোভাবে বুঝতে গবেষকরা ডেনমার্কের প্রায় পাঁচ লাখ নারীর গর্ভধারণসংক্রান্ত তথ্য বিশ্লেষণ করেছেন। কোপেনহেগেনের বিস্পেবজার্গ হাসপাতাল এবং কোপেনহেগেন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক দল অ্যাক্টিভিটি ট্র্যাকার এবং বিশেষজ্ঞদের মূল্যায়নের সমন্বয়ে একটি উন্নত ‘জব এক্সপোজার মডেল’ ব্যবহার করেন। এর মাধ্যমে তারা কর্মক্ষেত্রে নারীদের দাঁড়িয়ে থাকা, হাঁটা এবং ৩০ ডিগ্রি বা তার বেশি কোণে সামনের দিকে ঝুঁকে থাকার সময় পরিমাপ করেন। ২০০৪ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে ৪ লাখ ৭৫ হাজার ৩১২ জন নারীর মোট ৮ লাখ ৩ হাজার ৮২৯টি গর্ভাবস্থার তথ্য এই গবেষণায় বিশ্লেষণ করা হয়।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

গবেষণার ফলাফল

গবেষণায় দেখা গেছে, আট ঘণ্টার কর্মদিবসে প্রতি এক ঘণ্টা অতিরিক্ত সময় সামনের দিকে, বিশেষ করে ৩০ ডিগ্রি কোণে, ঝুঁকে থাকার কারণে গর্ভপাতের ঝুঁকি ৩৬ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে যায়। এছাড়া প্রতি এক ঘণ্টা অতিরিক্ত হাঁটাচলার কারণে এই ঝুঁকি বাড়ে ১৮ শতাংশ এবং অতিরিক্ত দাঁড়িয়ে থাকার কারণে ঝুঁকি বাড়ে ৩ শতাংশ। বিশ্লেষণ করা গর্ভাবস্থাগুলোর মধ্যে প্রায় প্রতি ১০টির মধ্যে ১টি গর্ভপাতে রূপ নিয়েছিল, যা অবশ্য স্বাভাবিক হারের চেয়ে কিছুটা কম।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

গবেষকদের ব্যাখ্যা

গবেষকদের মতে, যদিও এ সম্পর্কের সুনির্দিষ্ট কারণ এখনও পুরোপুরি বোঝা যায়নি, তবে এসব শারীরিক কর্মকাণ্ড প্লাসেন্টায় রক্তপ্রবাহ বা হরমোন নিয়ন্ত্রণে প্রভাব ফেলতে পারে, যা গর্ভপাতের ঝুঁকি বাড়াতে সক্ষম। তারা আরও উল্লেখ করেন, কর্মজীবী নারীদের সুরক্ষায় যে নির্দেশিকা বা গাইডলাইন রয়েছে, তাতে গর্ভাবস্থার প্রাথমিক ধাপটিকে অন্তর্ভুক্ত করার গুরুত্ব এই গবেষণার মাধ্যমে স্পষ্ট হয়েছে।

সীমাবদ্ধতা ও ভবিষ্যৎ গবেষণা

তবে এটি একটি পর্যবেক্ষণমূলক গবেষণা হওয়ায় এর ওপর ভিত্তি করে কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব নয় বলে জানিয়েছেন গবেষকরা। এর কিছু সীমাবদ্ধতাও ছিল, যার মধ্যে অন্যতম হলো গর্ভাবস্থায় নারীদের ধূমপানের ব্যক্তিগত কোনও তথ্য এই গবেষণায় ছিল না। এছাড়া ভারী কিছু বহন করা বা অন্যান্য পেশাগত ঝুঁকি যেমন নাইট শিফট বা রাসায়নিকের সংস্পর্শে আসার বিষয়গুলোও এতে সমন্বয় করা যায়নি। ফলে এই ফলাফল নিশ্চিত করতে আরও বিস্তারিত গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে।

বিশেষজ্ঞের মতামত

গবেষণায় অংশ না নেওয়া লন্ডনের সিটি সেন্ট জর্জস ইউনিভার্সিটির প্রসূতি ও মাতৃস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক আসমা খলিল বলেন, এই ফলাফলকে এমনভাবে ব্যাখ্যা করা উচিত নয় যে গর্ভাবস্থার শুরুতে স্বাভাবিক চলাফেরা অনিরাপদ। তার মতে, এটি ৮ লাখের বেশি গর্ভধারণের তথ্য নিয়ে পরিচালিত একটি বড় ও সুপরিকল্পিত গবেষণা। তবে এটি পর্যবেক্ষণভিত্তিক হওয়ায় সরাসরি কারণ প্রমাণ করতে পারে না।

সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান