বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএমইউ) অনুষ্ঠিত এক গোলটেবিল বৈঠকে জানানো হয়েছে, দেশের ৫৫ শতাংশ চিকিৎসক কর্মস্থলে ঝুঁকি নিয়ে কাজ করেন। সোমবার (২৭ এপ্রিল) বিএমইউর শহীদ ডা. মিল্টন হলে চিকিৎসক সপ্তাহ ২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত এ বৈঠকে বিশিষ্ট ইউরোলজিস্ট ও বিএনপির স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম এ তথ্য জানান।
চিকিৎসকদের ওপর সহিংসতা ও যৌন হয়রানি
ডা. মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম বলেন, অতিরিক্ত রোগীর চাপ সামলানোর পাশাপাশি চিকিৎসকদের ওপর সহিংসতার ঘটনা ঘটছে। কর্মস্থলে অনেক চিকিৎসক যৌন হয়রানিরও শিকার হন। সহিংসতার শিকার হয়ে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন অনেকে। এ অবস্থা থেকে উত্তরণে যথাযথ স্বাস্থ্য সেবা ও সুরক্ষা আইন প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন জরুরি।
কম বেতনে চিকিৎসকদের মানবেতর জীবন
বৈঠকে প্রধান অতিথি বিএমইউর ভিসি অধ্যাপক ডা. এফ এম সিদ্দিকী বলেন, চিকিৎসকদের বেতন ন্যূনতম ৫০ হাজার টাকা হওয়া উচিত, কিন্তু বর্তমানে অনেক চিকিৎসক খুব অল্প বেতনে চাকরি করছেন। পৃথিবীতে সবচেয়ে কম বেতনে চাকরি করে ডাক্তাররা। এ কারণে জুনিয়র ডাক্তারদের মানবেতর জীবনযাপন করতে হয়। তিনি আরও বলেন, যেসব কোটিপতি ডাক্তারের উদাহরণ দেওয়া হয় তাদের সংখ্যা ১০ শতাংশেরও কম। ৯০ ভাগ ডাক্তারই সংগ্রাম করছেন। এজন্য প্রাইভেট ক্লিনিকগুলোতে ন্যূনতম বেতন কাঠামো ঠিক করে দেওয়া উচিত।
নতুন মেডিকেল কলেজ নিয়ে বক্তব্য
বিএমইউর উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) অধ্যাপক ডা. মো. নজরুল ইসলাম বলেন, নতুন করে আর মেডিকেল কলেজের প্রয়োজন নেই। ব্যাঙের ছাতার মতো যত্রতত্র মেডিকেল কলেজ হওয়ার কারণে চিকিৎসকরা বেকার হবে। প্রতি বছর যত ডাক্তার বের হচ্ছে তাদের কর্মসংস্থান হচ্ছে না।
নৈতিকতা ও আস্থা অর্জনের গুরুত্ব
বিএমইউর ডিন অধ্যাপক ডা. মো. সাইফ উল্লহ মুন্সী বলেন, রোগীর আস্থা অর্জনের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। চিকিৎসকদের মর্যাদা রক্ষায় নৈতিকতার মানদণ্ড বজায় রাখা প্রয়োজন। চিকিৎসাপেশার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কোনো অনৈতিক অর্থ ব্যক্তিগতভাবে গ্রহণ না করার প্রতিজ্ঞা থাকলে চিকিৎসকদের প্রতি রোগীদের সম্মান দৃঢ় হবে।
বিএমইউর ডিন ডা. সাখাওয়াত হোসেন সায়ন্ত বলেন, চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মী ও রোগীর স্বার্থ ও নিরাপত্তা রক্ষায় নির্মোহ আলোচনা ও মূল্যায়ন প্রয়োজন। চিকিৎসক ও রোগীর সম্পর্ক বন্ধুসুলভ হবে, যা উভয়ের সম উপলব্ধির সঙ্গে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।
ক্লিনিক্যাল অনকোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. সৈয়দ মো. আকরাম হোসেন বলেন, চিকিৎসক ও রোগীদের সুরক্ষায় সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।
প্রখ্যাত রিউমাটোলজিস্ট অধ্যাপক ডা. মো. সৈয়দ আতিকুল হক বলেন, চিকিৎসকদের আজীবন নিরলস জ্ঞান অর্জনের কোনো বিকল্প নেই। নিজেকে আপ টু ডেট রাখার পাশাপাশি এভিডেন্স বেইজড মেডিসিন প্র্যাকটিসের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।
ভাস্কুলার সার্জন ডা. সাকলায়েন রাসেলের সঞ্চালনায় এ বৈঠকে আরও বক্তব্য দেন বিএমইউর বিভিন্ন বিভাগের চেয়ারম্যান ও চিকিৎসক সংগঠনের নেতারা।



