দিন দিন চুল পড়া বেড়ে যাওয়ার সমস্যায় অনেকেই দুশ্চিন্তায় ভুগছেন। কী খেলে ও কীভাবে যত্ন নিলে চুল পড়া কমানো যায়—এ বিষয়ে সম্প্রতি এক ভিডিও বার্তায় বিস্তারিত পরামর্শ দিয়েছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. তাসনিম জারা। তিনি জানান, সঠিক খাদ্যাভ্যাস ও নিয়মিত যত্ন চুলকে ঘন, মজবুত ও সুস্থ রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। পাশাপাশি কিছু খাবার নিয়মিত গ্রহণ করলে চুল পড়া কমাতে সহায়ক হতে পারে।
চুলের জন্য উপকারী ১০টি খাবার
১. বাদাম
চিনাবাদাম, কাঠবাদাম, কাজুবাদাম, পেস্তাবাদাম ও আখরোটে থাকা স্বাস্থ্যকর ফ্যাট ও ওমেগা ফ্যাটি অ্যাসিড চুলের গোড়া শক্ত রাখতে সাহায্য করে।
২. হলুদ ও কমলা রঙের ফল-সবজি
গাজর, মিষ্টি আলু, পেঁপে, কুমড়া ও আমে থাকা ভিটামিন এ চুলের ফলিকলকে সক্রিয় রাখে।
৩. তৈলাক্ত মাছ
ইলিশ, কৈ ও মলা মাছসহ বিভিন্ন মাছ ওমেগা-৩ ও প্রোটিন সরবরাহ করে, যা চুল ঘন করতে সাহায্য করে।
৪. ডিম
প্রোটিন, বায়োটিন ও ভিটামিন বি-১২ চুলের বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
৫. পালং শাক
ভিটামিন এ, সি ও আয়রন চুলের গোড়ায় পুষ্টি জোগায় এবং রক্ত চলাচল উন্নত করে।
৬. ডাল
প্রোটিন, আয়রন, জিঙ্ক ও ফলেট চুল পড়া কমাতে সহায়ক।
৭. বিভিন্ন বীজ
চিয়া সিড, সূর্যমুখীর বীজ, কুমড়ার বীজ ও তিসি বীজে থাকা পুষ্টি চুলকে শক্তিশালী করে।
৮. ছোলা
প্রোটিন, আয়রন ও জিঙ্ক চুলের গোড়া মজবুত রাখতে সাহায্য করে।
৯. টক দই
প্রোটিন ও জিঙ্ক চুলের বৃদ্ধিতে সহায়ক।
১০. টক ফল
কমলা, মাল্টা, লেবু ও পেয়ারা ভিটামিন সি সমৃদ্ধ, যা আয়রন শোষণে সাহায্য করে এবং চুল পড়া কমায়।
বাহ্যিক যত্ন ও উপকারী উপাদান
ডা. তাসনিম জারা জানান, পাম্পকিন সিড অয়েল বা কদুর তেল চুলে ব্যবহার করলে চুলের ঘনত্ব বাড়তে সহায়তা করতে পারে। কিছু গবেষণায় এর ইতিবাচক ফল পাওয়া গেছে।
চুল পড়া কমাতে কিছু ভুল এড়িয়ে চলুন
- শ্যাম্পুর পর কন্ডিশনার ব্যবহার না করা
- ভেজা চুল জোরে ঘষে মুছা
- ভেজা চুল আঁচড়ানো
- অতিরিক্ত হিট স্টাইলিং ব্যবহার
- খুব টাইট করে চুল বাঁধা
কখন চিকিৎসকের পরামর্শ জরুরি
চুল পড়া দীর্ঘস্থায়ী হলে বা অতিরিক্ত হলে এটি থাইরয়েড সমস্যা, রক্তশূন্যতা বা হরমোনজনিত কারণে হতে পারে। এ ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার কথা বলেছেন তিনি।
ডা. তাসনিম জারা আরও বলেন, চুল পড়ার বেশিরভাগ সমস্যার সমাধান আসে সঠিক খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত যত্ন এবং প্রয়োজন হলে চিকিৎসার মাধ্যমে।



