বজ্রপাতে সন্তান হারানো বৃদ্ধ বাবার রাতজাগা কবর পাহারা, ঋণ করে লোক রেখে চলছে দায়িত্ব
বজ্রপাতে সন্তান হারানো বৃদ্ধ বাবার রাতজাগা কবর পাহারা

বজ্রপাতে সন্তান হারানো বৃদ্ধ বাবার রাতজাগা কবর পাহারা

মুন্সীগঞ্জের টঙ্গীবাড়িতে বজ্রপাতে নিহত এক যুবকের লাশ চুরির ভয়ে রাত জেগে কবর পাহারা দিচ্ছেন তার বৃদ্ধ বাবা। এমনকি ঋণ করে লোক রেখেও চলছে এই পাহারা দেওয়ার কার্যক্রম, যা এলাকাবাসীর নজর কেড়েছে এবং মানবিক সহযোগিতার আহ্বান জানিয়েছে।

দুর্ঘটনা ও পাহারার শুরুর গল্প

গত বৃহস্পতিবার দুপুরে মুন্সীগঞ্জের টঙ্গীবাড়িতে বজ্রপাতে আরাফাত খানসহ দুই জন মারা যান। জসিম খানের সন্তান সাকিব খানকে উপজেলার কামারখাড়া সামাজিক কবরস্থানে দাফন করা হয়। এরপর থেকে এক সপ্তাহ ধরে রাতে পাহারা দিয়ে আসছেন মৃত আরাফাতের বাবা জসিম খান।

প্রতি রাতে ছেলের কবরের পাশে বসে থাকেন এই বাবা, যা দেখে এলাকাবাসীও এগিয়ে আসেন পরিবারটিকে সহযোগিতায়। বর্তমানে স্থানীয় এলাকাবাসী এই ব্যাপারে পরিবারটিকে মানবিক সহযোগিতায় এগিয়ে আসতে স্থানীয় প্রশাসনকে আহ্বান জানিয়েছেন।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

বাবার বেদনাদায়ক বক্তব্য

মৃত আরাফাতের বাবা জসিম খান বলেন, 'আমার ছেলে দর্জির কাজ করে সংসার চালাত। গরুর জন্য ঘাস আনতে গিয়ে বজ্রপাতে তার মৃত্যু হয়। লোকমুখে শুনেছি, বজ্রপাতে মারা যাওয়া ব্যক্তিদের লাশ চুরি হয়ে যায়। এই লাশের হাড় গোড়সহ দেহ নানা কাজে লাগে। সেই ভয় থেকেই কবর পাহারা দিচ্ছি।'

তিনি আরও বলেন, 'আমি অসুস্থ মানুষ, সবসময় থাকতে পারি না। দুই ছেলের মধ্যে আরাফাত বড় ছিল। ছোট ছেলের বয়স মাত্র ১২ বছর। এই জন্য এলাকাবাসী মাঝে মধ্যে সহযোগিতা করলেও সব সময় পাহারা দিতে পারিনা। তাই ঋণ করে লোক রেখে কবর পাহারা দিতে হচ্ছে। নিজের সংসারই ঠিকমতো চালাতে পারছি না, তবুও ছেলের কবর রক্ষায় প্রতিদিন খরচ করতে হচ্ছে। প্রশাসন যদি কবর পাহারার ব্যবস্থা করত, তাহলে কিছুটা শান্তি পেতাম।'

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

প্রশাসনের প্রতিক্রিয়া ও ব্যবস্থা

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তাহমিনা আক্তার জানান, 'আমরা ইতোমধ্যে নিহতের দাফন কাফনের জন্য আর্থিক সহায়তা করেছি। কবর পাহারায় বিষয়ে ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে গ্রাম পুলিশের মাধ্যমে পাহারার ব্যবস্থা করার জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও যদি আর্থিক সহযোগিতার প্রয়োজন হয় তাহলে আমরা সেটারও ব্যবস্থা করবো।'

লাশ চুরির পেছনের কুসংস্কার

বজ্রপাতে মৃতের মরদেহ চুরির কারণ জানতে স্থানীয় সচেতন মহলের একাধিক ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এটি একটি ভ্রান্ত কুসংস্কারের ফল। সাধারণত গ্রাম এলাকায় প্রচলিত এই ধারণা অনুযায়ী, বজ্রপাতে নিহত ব্যক্তির শরীর প্রাকৃতিক চুম্বক বা মূল্যবান কোনো ধাতুতে পরিণত হয়।

এই কুসংস্কারের কারণেই অনেক সময় কবর থেকে লাশ চুরির আশঙ্কা দেখা দেয়। তবে বিজ্ঞানের দৃষ্টিতে এই ধারণার কোনো ভিত্তি পাওয়া যায়নি, এবং এই লাশের বিশেষ কোনো কার্যকারিতা দেখা যায়নি।

তবে সেই ধারণার বশবর্তী হয়ে একটি চক্র কবর খুঁড়ে লাশ চুরি করে তা কোনো কঙ্কাল সিন্ডিকেটের কাছে বিক্রি করে থাকে, যা এই অঞ্চলে একটি উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।