ঢাকা দক্ষিণ সিটির ৬০% বাসায় ডেঙ্গুর লার্ভা, উদ্বেগ প্রকাশ
ঢাকা দক্ষিণ সিটির ৬০% বাসায় ডেঙ্গুর লার্ভা, উদ্বেগ

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) আওতাধীন বিপুল সংখ্যক বাসাবাড়িতে এডিস মশার লার্ভা পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন সংস্থাটির প্রশাসক মো. আব্দুস সালাম। শুক্রবার (৫ জুন) রাজধানীর ওয়ারীর সিলভারডেল প্রিপারেটরি অ্যান্ড গার্লস হাইস্কুলের পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ তথ্য জানান।

জরিপে উদ্বেগজনক তথ্য

আব্দুস সালাম বলেছেন, বিভিন্ন এলাকায় পরিচালিত জরিপ ও অভিযানে ৬০ থেকে ৮০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়িতে ডেঙ্গুবাহী এডিস মশার লার্ভার উপস্থিতি মিলেছে, যা ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। এই হার অত্যন্ত উদ্বেগজনক এবং দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

নাগরিকদের প্রতি আহ্বান

আব্দুস সালাম বলেন, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে শুধু সিটি করপোরেশনের কার্যক্রম যথেষ্ট নয়। এ জন্য প্রতিটি নাগরিককে নিজ নিজ বাসাবাড়ি ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। বাড়ির আঙিনা, ছাদ, ফুলের টব, পরিত্যক্ত পাত্র বা যেকোনো স্থানে জমে থাকা পানি নিয়মিত অপসারণ করতে হবে, কারণ এসব স্থানই এডিস মশার প্রধান প্রজননক্ষেত্র।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

তিনি আরও বলেন, নগরীতে ডেঙ্গুর ঝুঁকি এখনো উদ্বেগজনক পর্যায়ে রয়েছে। নাগরিকদের সচেতনতা ও অংশগ্রহণ ছাড়া ডেঙ্গুর বিস্তার রোধ করা সম্ভব নয়। তাই সবাইকে দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে এবং নিজ নিজ এলাকার পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করতে হবে। ডিএসসিসি প্রশাসক আরও বলেন, শুধু বাসাবাড়ির ভেতর নয়, আশপাশের পরিবেশও স্বাস্থ্যসম্মত রাখতে হবে। ডেঙ্গু প্রতিরোধে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সম্মিলিত প্রচেষ্টা জরুরি।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

নগর উন্নয়ন প্রসঙ্গে

অনুষ্ঠানে নগর উন্নয়ন প্রসঙ্গেও কথা বলেন আব্দুস সালাম। তিনি বলেন, রাজধানীর বিভিন্ন স্কুল-কলেজে খেলার মাঠসহ শিক্ষাবান্ধব অবকাঠামো ও সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে। পাশাপাশি হকারদের পুনর্বাসনের মাধ্যমে নির্ধারিত স্থানে ব্যবসা পরিচালনার ব্যবস্থা করা হবে। এই উদ্যোগগুলো নগরীর সামগ্রিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতামত

ডেঙ্গুর মৌসুম শুরুর প্রেক্ষাপটে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এডিস মশার বিস্তার রোধে নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা অভিযান, জমে থাকা পানি দ্রুত অপসারণ এবং নাগরিক সচেতনতার কোনো বিকল্প নেই। রাজধানীতে ডেঙ্গু সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণও গুরুত্বপূর্ণ বলে তারা মনে করছেন। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, যদি নাগরিকরা নিজ নিজ এলাকায় পরিচ্ছন্নতা না রাখেন, তাহলে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণে আনা কঠিন হবে।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের এই জরিপের ফলাফল ডেঙ্গু পরিস্থিতি সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা দিচ্ছে। এখন সময় এসেছে সবাইকে একযোগে কাজ করার, যাতে ডেঙ্গুর প্রকোপ থেকে নগরীকে রক্ষা করা যায়।