নিখোঁজ হওয়ার সাড়ে তিন বছর পর বাগেরহাটের খানজাহান আলী (রহঃ) মাজারসংলগ্ন দিঘিতে কুমিরের আক্রমণে নিহত সাত বছর বয়সী শিশু ফাতেমার মা ফজিলা বেগম (৪৭) পরিবারের কাছে ফিরে গেছেন। বৃহস্পতিবার দুপুরে বাগেরহাট সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোসা. আতিয়া খাতুন ফজিলা বেগমকে তার পরিবারের সদস্যদের কাছে হস্তান্তর করেন। এ সময় ফজিলা বেগমের মা হাজেরা খাতুন, ভাই হারেজ আলী ও জুয়েল মিয়াসহ পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
ফজিলা বেগমের পরিবার জানান, মাজারের দিঘীতে কুমিরের আক্রমণে শিশু ফাতেমার মৃত্যুর ঘটনা বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রচারিত হলে প্রকাশিত ছবি দেখে ফজিলা বেগমকে শনাক্ত করেন তার স্বজনরা। পরে পরিবারের ছয় সদস্য বুধবার ময়মনসিংহ সদর উপজেলার চরখরিচা গ্রাম থেকে বাগেরহাটের উদ্দেশে রওনা হন এবং বৃহস্পতিবার সকালে সেখানে পৌঁছান।
ফজিলা বেগমের মা হাজেরা খাতুন বলেন, প্রায় সাড়ে তিন বছর আগে আমার মেয়ে ফজিলা তার ছোট মেয়ে ফাতেমাকে নিয়ে বাড়ি থেকে নিখোঁজ হয়। তখন ফাতেমার বয়স ছিল তিন থেকে চার বছর। ফাতেমা পাঁচ ভাইবোনের মধ্যে সবচেয়ে ছোট ছিল। বর্তমানে দুই ভাই ও দুই বোন জীবিত আছে। তাদের বাবা মমরুজ আলী রিকশা চালানোর পাশাপাশি কৃষিকাজ করেন। মেয়েকে ফিরে পেয়ে আমরা সবাই আনন্দিত, তবে ফাতেমার জন্য খুব কষ্ট হচ্ছে।
ফজিলা বেগমের ছোট ভাই মোহাম্মদ জুয়েল মিয়া বলেন, তিন বছরের বেশি সময় আগে আমার বোন হারিয়ে গিয়েছিল। আজ তাকে ফিরে পেয়ে আমরা আনন্দিত। তবে ভাগ্নি ফাতেমার মৃত্যুর কথা মনে হলে খুব খারাপ লাগে। মানসিক ভারসাম্যহীন ফজিলা বেগম স্পষ্টভাবে কিছু বলতে না পারলেও বারবার একটি কথাই বলার চেষ্টা করেন, ‘আমি আমার মেয়েকে ছেড়ে যাব না।’
বাগেরহাট সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোসা. আতিয়া খাতুন বলেন, ফজিলা বেগমের পরিবারের সদস্যরা সকালে আমার সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তাদের পরিচয় নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করা হয়। এরপর সমাজসেবা বিভাগের কর্মকর্তা, বাগেরহাট সদর মডেল থানার প্রতিনিধি এবং গণমাধ্যমকর্মীদের উপস্থিতিতে তাকে পরিবারের জিম্মায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, এর আগে সোমবার রাত সাড়ে আটটার দিকে দিঘির পূর্ব পাশের ঘাটে গোসল করতে নামলে সাত বছর বয়সী শিশু ফাতেমাকে আক্রমণ করে কুমির। পরে দিঘিতে অনেক খোঁজাখুঁজির পর মঙ্গলবার ভোর সাড়ে চারটার দিকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।



