রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলায় যমুনেশ্বরী নদীতে গোসল করতে নেমে দুই কিশোরের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার (২৯ মে) দুপুরে উপজেলার হাড়িয়ারকুঠি ইউনিয়নের কাশিয়াবাড়ি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত দুই কিশোর হলেন উপজেলার ডাঙ্গীরহাট তেলিপাড়া গ্রামের বাসিন্দা অহিদ ইসলাম (১৫) ও তার বন্ধু মাসুদ রানা (১৬)।
অভাবের কারণে ঢাকায় কাজ করত দুই কিশোর
স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, অভাবের সংসারে পরিবারকে সহায়তা করতে দুই কিশোর ঢাকায় গিয়ে শ্রমিকের কাজ করতো। ঈদ উপলক্ষে পরিবারের সঙ্গে সময় কাটাতে কয়েক দিন আগে তারা গ্রামে ফিরেছিল। উভয়ই সাঁতার জানতো না। মাসুদ রানা মা-বাবার সঙ্গে ঢাকায় থাকতো এবং নির্মাণশ্রমিকের কাজ করতো। অন্যদিকে অহিদ ইসলামের বাবা গ্রামে ভ্যান চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করে। পরিবারকে সহযোগিতা করতে এক বছর আগে অহিদও ঢাকায় নির্মাণশ্রমিকের কাজে যোগ দেয়।
দুপুরে বন্ধুদের সঙ্গে নদীতে গোসল করতে গিয়ে মৃত্যু
শুক্রবার সকালে কয়েকজন বন্ধুর সঙ্গে বাড়ি থেকে প্রায় তিন কিলোমিটার দূরের কাশিয়াবাড়ি এলাকায় যমুনেশ্বরী নদীতে গোসল করতে যায় অহিদ ও মাসুদ। একপর্যায়ে তারা পানিতে তলিয়ে যায়। পরে স্থানীয় লোকজন উদ্ধার করে অহিদকে ঘটনাস্থলে মৃত অবস্থায় পান। অচেতন অবস্থায় মাসুদ রানাকে তারাগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। সেখানে দায়িত্বরত চিকিৎসক হাসান আল মামুন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
পরিবারে শোক ও গ্রামবাসীর আহাজারি
তেলিপাড়া গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, উভয় পরিবারে শোক নেমে এসেছে। গ্রামবাসীর ঈদের আনন্দ ম্লান হয়েছে স্বজনদের আহাজারিতে। অহিদ ইসলামের মা কাজলী বেগম ছেলেকে হারিয়ে বারবার মূর্ছা যাচ্ছিলেন। জ্ঞান ফিরলেই বিলাপ করছিলেন, ‘বাবা অহিদ, তুই হামাক ছাড়ি কই গেলু। মোর বুকটা খালি করলু। মুই তোক ছাড়ি বাঁচিম কেমন করি। তুই ঢাকা যাবু না?’ মাসুদ রানার বাবা কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘একটাই ছেলে। ওকে নিয়ে ঢাকায় থাকতাম। গ্রামে ঈদ করতে আসছিলাম। শেষ পর্যন্ত আমার বাবাটাকেই কোরবানি দিলাম।’
উভয় কিশোর নম্র-ভদ্র ছিল জানিয়ে প্রতিবেশী জুয়েল বাবু বলেন, অভাবের কারণে ছোট বয়সেই ঢাকায় গিয়ে কাজ করত। ঈদের আনন্দ করতে এসে নদীতে প্রাণ হারালো। তারাগঞ্জ থানার ওসি রুহুল আমিন বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে দুই কিশোরের লাশ উদ্ধার করে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।



