রাজধানীর মগবাজারে অবস্থিত আদ্-দ্বীন হাসপাতালের মাতৃত্ব ও নবজাতক ওয়ার্ডে সাম্প্রতিক সময়ে ঘটে যাওয়া একাধিক নবজাতকের মৃত্যু ও অসুস্থতার ঘটনায় দায়ীদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ও ফৌজদারি ব্যবস্থা গ্রহণ, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে ক্ষতিপূরণ প্রদান এবং দেশের সব হাসপাতালের মা ও নবজাতক ওয়ার্ডে জরুরি নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করার দাবিতে লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হয়েছে।
স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক) এবং আদ্-দ্বীন হাসপাতালের পরিচালকের কাছে এ নোটিশ পাঠান সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ইশরাত হাসান। শুক্রবার (২৯ মে) নোটিশটি পাঠানো হয়।
ঘটনার বিবরণ
নোটিশে বলা হয়, আদ্-দ্বীন হাসপাতালের মাতৃত্ব ও নবজাতক ওয়ার্ডে সাম্প্রতিক সময়ে ঘটে যাওয়া একাধিক নবজাতকের মৃত্যু ও অসুস্থতার ঘটনায় দেশজুড়ে উদ্বেগ, শোক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম ও অভিভাবকদের অভিযোগ অনুযায়ী, গভীর রাতে সদ্য জন্ম নেওয়া কয়েকটি নবজাতক একসঙ্গে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ে। তাদের মধ্যে অবিরাম কান্না, বমি, শ্বাসকষ্ট এবং শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতির লক্ষণ দেখা যায়। একইসঙ্গে কয়েকজন প্রসূতি মাও অসুস্থ হয়ে পড়েন।
নোটিশে আরও উল্লেখ করা হয়, সংকটপূর্ণ পরিস্থিতিতে পর্যাপ্ত জরুরি চিকিৎসাসেবা, সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ ও তাৎক্ষণিক সহায়তা নিশ্চিত করা হয়নি। এছাড়া দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসাকর্মীদের উপস্থিতি ও তৎপরতা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়। অভিযোগ রয়েছে, গুরুতর অসুস্থ নবজাতকদের উন্নত চিকিৎসা বা উপযুক্ত চিকিৎসাকেন্দ্রে স্থানান্তরেও বিলম্ব করা হয়। ফলে একের পর এক নবজাতকের মৃত্যু ঘটে, যা গোটা জাতিকে মর্মাহত করেছে।
স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা
এ ঘটনায় দেশের হাসপাতালগুলোর মাতৃত্ব ও নবজাতক ওয়ার্ডের নিরাপত্তা, জরুরি চিকিৎসা সাড়া ব্যবস্থা ও স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা সামনে এসেছে বলেও নোটিশে উল্লেখ করা হয়। বিশেষ করে নবজাতক ও প্রসূতি মায়েদের জন্য কার্যকর মনিটরিং, দ্রুত চিকিৎসাসেবা এবং জবাবদিহিমূলক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি স্পষ্ট হয়েছে।
চার দফা দাবি
নোটিশে চারটি পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি উত্থাপন করা হয়েছে:
- প্রথম: আদ্-দ্বীন হাসপাতালের নবজাতক মৃত্যুর ঘটনায় দায়ীদের চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় বিভাগীয় ও ফৌজদারি ব্যবস্থা নেওয়া।
- দ্বিতীয়: ক্ষতিগ্রস্ত নবজাতকদের পরিবারকে পর্যাপ্ত ও কার্যকর ক্ষতিপূরণ দেওয়া।
- তৃতীয়: দেশের সব সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালের মাতৃত্ব ও নবজাতক ওয়ার্ডে জরুরি চিকিৎসা সাড়া, রোগী নিরাপত্তা এবং সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় নির্দেশিকা, প্রটোকল ও কার্যকর ব্যবস্থা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন।
- চতুর্থ: প্রতিটি হাসপাতালের নিরাপত্তা, জরুরি চিকিৎসা সাড়া ব্যবস্থা, রোগী নিরাপত্তা, সেবার মান এবং সার্বিক স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম নিয়মিত তদারকি ও মূল্যায়নের লক্ষ্যে কার্যকর মনিটরিং ব্যবস্থা বা তদারকি কমিটি গঠন।
নোটিশে আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে এ বিষয়ে গৃহীত পদক্ষেপ জনসাধারণকে জানানোর অনুরোধ জানানো হয়েছে।



