কোরবানির মাংস ফ্রিজে কতদিন নিরাপদ থাকে? বিশেষজ্ঞের পরামর্শ
কোরবানির মাংস ফ্রিজে কতদিন নিরাপদ?

কোরবানির ঈদে অনেক পরিবারের ফ্রিজ ভরে যায় মাংসে। এরপর সপ্তাহের পর সপ্তাহ, কখনও মাসের পর মাস সেই মাংসই রান্না করে খাওয়া হয়। তবে ফ্রিজে রাখলেই যে মাংস নিরাপদ থাকবে, বিষয়টি এমন নয়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভুল তাপমাত্রা, অনিরাপদ সংরক্ষণ পদ্ধতি কিংবা বারবার গলিয়ে আবার জমিয়ে রাখার কারণে ভালো মাংসও স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণ হয়ে উঠতে পারে।

ফ্রিজে কতদিন ভালো থাকে মাংস

খাদ্য নিরাপত্তা–সংশ্লিষ্ট আন্তর্জাতিক নির্দেশনা অনুযায়ী, সাধারণ ফ্রিজের নরমাল চেম্বারে ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা তার নিচে কাঁচা গরু বা খাসির মাংস সাধারণত ৩ থেকে ৫ দিন পর্যন্ত ভালো থাকে। অপরদিকে, ডিপ ফ্রিজ বা ফ্রিজারের তাপমাত্রা মাইনাস ১৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কাছাকাছি থাকলে মাংস দীর্ঘ সময় সংরক্ষণ করা সম্ভব। বিশেষজ্ঞদের তথ্যমতে— গরু বা খাসির মাংস ৪ থেকে ১২ মাস; কিমা করা মাংস ৩ থেকে ৪ মাস; রান্না করা মাংস ২ থেকে ৩ মাস ফ্রিজে সাধারণত ভালো থাকে। তবে দীর্ঘদিন সংরক্ষণ করলে ধীরে ধীরে মাংসের স্বাদ ও গুণগত মান কমে যেতে পারে।

কখন আর নিরাপদ থাকে না

বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু ফ্রিজে থাকলেই মাংস নিরাপদ—এমন ধারণা ঠিক নয়। কিছু লক্ষণ দেখা দিলে সেই মাংস আর না খাওয়াই ভালো। যেমন— টক বা অস্বাভাবিক গন্ধ; পিচ্ছিল বা আঠালো অনুভূতি; রং কালচে, ধূসর বা সবুজাভ হয়ে যাওয়া; অতিরিক্ত শুকিয়ে যাওয়া বা বরফ জমে শক্ত হয়ে যাওয়া। তবে সবসময় নষ্ট মাংসে গন্ধ বা রঙের পরিবর্তন দেখা যাবে, এমনও নয়। তাপমাত্রার ভুল ব্যবস্থাপনায় ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া জন্ম নিতে পারে, যা খালি চোখে বোঝা সম্ভব হয় না।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

গরম মাংস সরাসরি ফ্রিজে রাখা ঠিক নয়

কোরবানির পর অনেকেই বড় পাত্রে গরম মাংস ভরে সরাসরি ফ্রিজে রেখে দেন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মাংস কিছুটা ঠান্ডা করে ছোট ছোট ভাগে আলাদা প্যাকেটে সংরক্ষণ করা নিরাপদ। তবে দীর্ঘ সময় খোলা জায়গায় ফেলে রাখাও ঠিক নয়।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

বারবার গলিয়ে আবার জমালে বাড়ে ঝুঁকি

একবার ফ্রিজ থেকে বের করে পুরো মাংস গলানোর পর আবার সেটি জমিয়ে রাখলে ব্যাকটেরিয়া বৃদ্ধির ঝুঁকি বেড়ে যায়। বিশেষ করে কক্ষ তাপমাত্রায় দীর্ঘ সময় রেখে দিলে ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে। তাই যতটুকু প্রয়োজন, ততটুকু আলাদা প্যাকেটে সংরক্ষণ করার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

বিদ্যুৎ বিভ্রাটেও কমে নিরাপত্তা

ঈদের সময় অতিরিক্ত চাপের কারণে অনেক এলাকায় বিদ্যুৎ বিভ্রাট দেখা যায়। দীর্ঘ সময় ফ্রিজ বন্ধ থাকলে জমাট মাংস ধীরে ধীরে গলতে শুরু করে, যা ব্যাকটেরিয়া বৃদ্ধির অনুকূল পরিবেশ তৈরি করতে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিদ্যুৎ চলে গেলে অপ্রয়োজনে ফ্রিজ খোলা উচিত নয়।

কী ধরনের অসুস্থতা হতে পারে

ভুলভাবে সংরক্ষিত মাংস থেকে ফুড পয়জনিং, ডায়রিয়া, বমি, পেটব্যথা ও ব্যাকটেরিয়াজনিত সংক্রমণ হতে পারে। শিশু, বয়স্ক ব্যক্তি ও অসুস্থদের ক্ষেত্রে এই ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি।

নিরাপদ রাখতে যা করবেন

  • ছোট ছোট ভাগে সংরক্ষণ করুন
  • এয়ারটাইট ব্যাগ বা ফুড গ্রেড কন্টেইনার ব্যবহার করুন
  • কাঁচা ও রান্না করা মাংস আলাদা রাখুন
  • প্যাকেটের গায়ে সংরক্ষণের তারিখ লিখে রাখুন
  • প্রয়োজন ছাড়া গলানো মাংস পুনরায় জমাবেন না
  • ফ্রিজ অতিরিক্ত ভর্তি করবেন না