স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন দাউদকান্দি উপজেলায় দুটি হাসপাতাল পরিদর্শন করেছেন। এ সময় গৌরীপুরস্থ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে আধুনিকায়ন এবং শহীদনগর ট্রমা সেন্টার দ্রুত চালু করার জন্য স্বাস্থ্যমন্ত্রীর কাছে দাবি জানান বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও সুপ্রীম কোর্টের এডভোকেট ড. খন্দকার মারুফ হোসেনের নেতৃত্বে সমবেত নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ।
পরিদর্শন ও দাবি
সোমবার (২৫ মে) বিকালে দাউদকান্দি উপজেলার গৌরীপুর এবং শহীদনগরে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুলকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান বীর মুক্তিযোদ্ধা ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনের ছেলে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও সুপ্রীম কোর্টের এডভোকেট ড. খন্দকার মারুফ হোসেন। গৌরীপুরস্থ দাউদকান্দি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং শহীদনগরে ট্রমা সেন্টার পরিদর্শনকালে ড. খন্দকার মারুফ হোসেন স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে জানান, বিগত বিএনপি সরকারের সময়ে তৎকালীন স্বাস্থ্যমন্ত্রী (বর্তমানে এমপি) ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে চিকিৎসা সরঞ্জামে সজ্জিতকরণ, নতুন বিল্ডিং নির্মাণ এবং প্রচুর সংস্কার কাজ করেছেন।
বিএনপি সরকারের ক্ষমতার শেষদিকে (৮ অক্টোবর, ২০০৬) ড. খন্দকার মোশাররফের প্রচেষ্টায় শহীদনগরে ট্রমা সেন্টারটি নির্মিত হয়, জনবলও নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় এসে এই ট্রমা সেন্টারটি কার্যত বন্ধ করে দিয়েছে। এমনকি সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রীর নামখচিত উদ্বোধনী নামফলকটিও খুলে ফেলেছে। ফলে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের গুরুত্বপূর্ণ স্থান শহীদনগরে ট্রমা সেন্টারটি নির্মিত হলেও গত ১৭ বছর দুর্ঘটনাকবলিত আহত রোগীদের কোনো কাজে আসেনি।
স্বাস্থ্যমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি
এই সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রী সাখাওয়াত হোসেন ফোনে (ড. খন্দকার মারুফের ফোনে) স্থানীয় এমপি ও সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন এবং বলেন, এই দুইটি হাসপাতালসহ আপনার যে কোনো কাজ গুরুত্ব দিয়ে করবো। ড. খন্দকার মারুফ হোসেন বৃহত্তর জনস্বার্থে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে আধুনিকীকরণ এবং শহীদনগর ট্রমা সেন্টারটি দ্রুত চালু করার জন্য স্বাস্থ্যমন্ত্রীর কাছে অনুরোধ করেন। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল দাউদকান্দি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পরিত্যক্ত পুরোনো বিল্ডিং ভেঙে আধুনিক হাসপাতালে উন্নীত এবং শহীদনগর ট্রমা সেন্টার আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জামে সজ্জিত করে ৬ মাসের মধ্যে চালু করবে বলে প্রতিশ্রুতি দেন।
উপস্থিত ব্যক্তিবর্গ
এ সময় উপস্থিত ছিলেন, দাউদকান্দি উপজেলার ইউএনও নাছরীন আক্তার, দাউদকান্দি উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কর্মকর্তা মো. হাবিবুর রহমান, দাউদকান্দি থানার ওসি এম এ বারী, কুমিল্লা উত্তর জেলা বিএনপির আহবায়ক আক্তারুজ্জামান সরকার, দাউদকান্দি উপজেলা বিএনপির আহবায়ক এম. এ লতিফ ভূইয়া, সদস্য সচিব ভিপি জাহাঙ্গীর আলম, সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক আলহাজ্ব জসিমউদ্দিন আহমেদ, যুগ্ম আহবায়ক এনামুল হক সফর তালুকদার প্রমুখ।
উল্লেখ্য, কুমিল্লা-১ আসনের এমপি বীর মুক্তিযোদ্ধা ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন ইতোমধ্যে দাউদকান্দি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ১৫০ শয্যায় উন্নীত এবং শহীদনগর ট্রমা সেন্টার চালু করার জন্য স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেনের কাছে পৃথক ডিও লেটার পাঠিয়েছেন।



