দীর্ঘ কর্মঘণ্টা ও চাপে হাই পারফরমারদের হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ছে
উচ্চ সফলতা অর্জনের জন্য অনেকেই অত্যন্ত কঠোর শারীরিক ও মানসিক পরিশ্রম করেন। প্রায় প্রতিদিন চাপের কাজে নিজেকে ব্যস্ত রাখেন। এ ধরনের হাই পারফরমারদের হৃদরোগের ঝুঁকি অন্যদের তুলনায় অনেক বেশি হতে পারে। এটি শুধু সাধারণ ঝুঁকির কারণের মতো নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদি চাপ ও অবসাদ হৃৎপিণ্ডের ওপর সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।
এ ছাড়া শরীরের প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ধীরে ধীরে দুর্বল হয়ে যেতে পারে। কাজের ধরন অনুসারে ওজন বাড়তে পারে, ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বৃদ্ধি পেতে পারে, জয়েন্ট ও পেশির সমস্যা দেখা দিতে পারে এবং মস্তিষ্কও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। জেনে নিন কোন ধরনের হাই পারফরমারদের হৃদরোগের ঝুঁকি বেশি এবং কীভাবে এটি প্রতিরোধ করা যায়।
হাই পারফরমারদের হৃদরোগের ঝুঁকির প্রধান কারণসমূহ
- দীর্ঘ কর্মঘণ্টা: যারা সপ্তাহে ৫৪ ঘণ্টা বা তার বেশি (সপ্তাহে ৬ দিন, দিনে ৯ ঘণ্টা) কাজ করেন, তাদের করোনারি হার্ট ডিজিজের ঝুঁকি অন্যদের তুলনায় প্রায় ১৩ শতাংশ বেশি।
- বেশি চাপ ও উদ্বেগ: চাপ থাকলে শরীরে স্ট্রেস হরমোন (যেমন কর্টিসল ও অ্যাড্রেনালিন) বেশি থাকে। এসব উচ্চ রক্তচাপ ও দীর্ঘমেয়াদি ইনফ্লেমেশন তৈরি করে, যা হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ায়।
- পর্যাপ্ত বিশ্রাম ও ঘুমের অভাব: ঘুম ও বিশ্রামের অভাবে শরীর রিল্যাক্সেশন পর্যায়ে যেতে পারে না। ফলে হৃৎপিণ্ডের কর্মক্ষমতা দ্রুত কমে যেতে পারে এবং হৃদরোগের সম্ভাবনা বৃদ্ধি পায়।
- অনিয়মিত ব্যায়াম: অনেকেই দক্ষতা বা ফলাফল দেখাতে অকস্মাৎ ভারী কাজ বা শারীরিক কসরত অথবা ব্যায়াম করেন। এতে হুট করে হৃৎপিণ্ডে চাপ পড়ে। আবার পরিমিত ও ধারাবাহিক ব্যায়ামের অভাবেও হৃৎপিণ্ডের ওপর চাপ বাড়ে।
- পুশ থ্রু মনোভাব: তীব্র চাপ সহ্য করার মনোভাব থাকায় হাই পারফরমাররা সাধারণত পূর্বলক্ষণ, যেমন ক্লান্তি, ব্যথা বা অস্বস্তিকে উপেক্ষা করেন। ফলে অনেক সময় রোগনির্ণয় ও চিকিৎসা দেরিতে শুরু হয়, যা ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে তোলে।
ঝুঁকি কমাতে করণীয়
কর্মক্ষেত্রে সফল বা হাই পারফরমারদের কিছু পরিস্থিতিতে হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়তে পারে। তবে এটা সরাসরি সফলতার সঙ্গে সম্পর্কিত নয়। বরং সফলতার পথে অস্বাস্থ্যকর জীবনযাপন ও চাপের ধরনই হৃদরোগের ঝুঁকির মূল কারণ। অর্থাৎ সফল হওয়া মানেই হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ানো নয়। ঝুঁকি বাড়ে তখনই, যখন কাজ-জীবনের ভারসাম্য থাকে না, দীর্ঘমেয়াদি চাপ থাকে এবং বিশ্রাম, ঘুম ও স্বাস্থ্যকে অবহেলা করা হয়।
- প্রতিদিন ৭–৮ ঘণ্টা গভীর ঘুম আপনার জন্য জরুরি।
- সপ্তাহে অন্তত ১৫০ মিনিট ব্যায়াম করুন।
- কাজের মাঝে নিয়মিত বিরতি নিন।
- কর্মক্ষেত্রের চাপকে বাড়িতে না নিয়ে আসা (যে কারণে হোম অফিস খানিকটা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে)।
- স্ট্রেস ম্যানেজমেন্টের জন্য ধ্যান, শ্বাসপ্রশ্বাসের ব্যায়াম অনুশীলন করুন।
- নিয়মিত রক্তচাপ, সুগার ও কোলেস্টেরল পরীক্ষা করান।
এই পদক্ষেপগুলো অনুসরণ করে হাই পারফরমাররা তাদের হৃদরোগের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমাতে পারেন এবং সুস্থ জীবনযাপন নিশ্চিত করতে পারেন।



