নরসিংদীতে মাদ্রাসায় শিশুকে গোসল না চাওয়ায় বেত্রাঘাত, শিক্ষক আটক
নরসিংদীতে একটি মাদ্রাসায় গোসল করতে না চাওয়ায় সাত বছরের শিশু শিক্ষার্থীকে পা থেকে মাথা পর্যন্ত বেধড়ক পিটিয়ে আহত করার ঘটনায় অভিযুক্ত শিক্ষককে আটক করা হয়েছে। শিশুটি বর্তমানে নরসিংদী জেলা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রয়েছে।
ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ
গত শুক্রবার নরসিংদী শহরের ভেলানগরের জেলখানার মোড় এলাকার মাদ্রাসাতুল আবরার আরাবিয়াহ মাদ্রাসায় এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। মুজাহিদুল (৭) নামের ওই শিক্ষার্থী গোসল করতে না চাওয়ায় রাগান্বিত হয়ে শিক্ষক নাজমুস সাকিব তার সারা শরীরে বেত্রাঘাত করেন। শিশুটির বাবা জুয়েল আহমেদ পরে মাদ্রাসায় গিয়ে তাকে কাঁদতে দেখেন এবং আঘাতের চিহ্ন দেখে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যান।
হাসপাতাল ও পরিবারের বক্তব্য
নরসিংদী জেলা হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক এ এন এম মিজানুর রহমান জানান, শিশুটি গতকাল সন্ধ্যায় শরীরের বিভিন্ন স্থানে লাঠির আঘাতের চিহ্ন নিয়ে ভর্তি হয়। শিশুটির ফুফু শাকিলা বেগম বলেন, "শরীরজুড়ে বেত্রাঘাতের দাগ আর রক্তাক্ত ক্ষতচিহ্ন। কোনোভাবেই শিশুকে এভাবে পেটানো যায় না। এমন ঘটনা ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রতি অভিভাবকের আস্থা ক্ষুণ্ন করতে পারে।"
মাদ্রাসা ও পুলিশের পদক্ষেপ
মাদ্রাসার পরিচালক মিসবাহ উদ্দিন নোমানী মুঠোফোনে জানান, অভিযুক্ত শিক্ষকের কাছ থেকে মুচলেকা নিয়ে তাকে মাদ্রাসা থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। নরসিংদী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এম আর আল মামুন বলেন, ভুক্তভোগী পরিবারের লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পরপরই শিক্ষককে আটক করা হয়েছে এবং মামলা হলে তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হবে।
সামাজিক প্রতিক্রিয়া
এই ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে অনেকে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। আজ শনিবার বিষয়টি ছড়িয়ে পড়ার পর এটি ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে। শিশুটিকে কোরআনে হাফেজ করার জন্য মাদ্রাসায় ভর্তি করা হয়েছিল বলে পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন।



