রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের কর্মবিরতি প্রত্যাহার
রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের ইন্টার্ন চিকিৎসকরা ২৪ ঘণ্টার কর্মবিরতি প্রত্যাহার করেছেন। বুধবার (২২ এপ্রিল ২০২৬) সকাল সাড়ে ৯টায় হাসপাতালের জরুরি বিভাগের ইনচার্জের কক্ষে সংবাদ সম্মেলন করে তারা এই ঘোষণা দেন। একটি রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে তার স্বজনের সঙ্গে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে মঙ্গলবার সকাল ৯টায় তারা এই কর্মবিরতি শুরু করেছিলেন।
কর্মবিরতির কারণ ও ঘটনার বিবরণ
সংবাদ সম্মেলনে ইন্টার্ন চিকিৎসকরা দাবি করেন যে, জুলিয়ারা বেগম (৫০) নামের রোগীর মৃত্যুতে চিকিৎসায় কোনো অবহেলা করা হয়নি। ওই রোগীকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) নেওয়ার প্রয়োজন ছিল এবং এজন্য আইসিইউতে সিরিয়াল দেওয়া হয়েছিল। তবে অপেক্ষমাণ অন্যান্য রোগীর কারণে বেড না পাওয়ায় তাকে স্থানান্তর করা সম্ভব হয়নি। যখন রোগী মারা যান, তখন দায়িত্বরত ইন্টার্ন চিকিৎসক আরও দুজন মূমুর্ষু রোগীর চিকিৎসায় ব্যস্ত ছিলেন।
সোমবার রাতে হাসপাতালের ৩৬ নম্বর ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন অবস্থায় জুলিয়ারা বেগমের মৃত্যু হয়। এরপর তার দুই ছেলে সেনাসদস্য সোহেল আলী (২৯) ও বিদ্যালয়ের নৈশপ্রহরী জয় আলী (২৪) অভিযোগ তোলেন যে, অবহেলার কারণে তাদের মায়ের মৃত্যু হয়েছে। ইন্টার্ন চিকিৎসকদের অভিযোগ, তারা মারমুখী আচরণ করেছেন এবং এ সময় সেনাসদস্য সোহেল আলীকেও মারধর করা হয়।
মামলা ও আইনি পদক্ষেপ
পরবর্তীতে দুই ভাইকে পুলিশে তুলে দেওয়া হয় এবং হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাদের বিরুদ্ধে একটি মামলা করে। এই মামলায় জয় আলীকে গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়, যেখানে তিনি জামিন পান। অন্যদিকে, সেনা আইনে বিচারের জন্য সোহেল আলীকে সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হয়। সেনা হেফাজত থেকেই সোহেল মঙ্গলবার মায়ের জানাজায় অংশ নেন, আর জয় আদালত থেকে জামিন নিয়ে জানাজায় যোগ দেন। তাদের বাড়ি রাজশাহীর চারঘাট উপজেলার ধর্মহাটা গ্রামে।
দাবি ও কর্মবিরতি প্রত্যাহার
ইন্টার্ন চিকিৎসকরা জানিয়েছেন যে, তারা ওয়ার্ডে মিড লেভেলের চিকিৎসকের উপস্থিতি নিশ্চিত করা, তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাসহ চারদফা দাবিতে কর্মবিরতিতে গিয়েছিলেন। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এসব দাবির ব্যাপারে ইতিবাচক সাড়া দিয়েছে, যা তাদের কর্মবিরতি প্রত্যাহারের মূল কারণ। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে তারা আশা প্রকাশ করেন যে, ভবিষ্যতে এমন ঘটনা পুনরাবৃত্তি রোধ করা সম্ভব হবে এবং চিকিৎসা সেবার মান উন্নত হবে।



